অনলাইন ডেস্ক : বিভিন্ন সময় ভারতে পাচারের শিকার ২০ জন বাংলাদেশী নারী ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে অবশেষে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তারা বাংলাদেশে ফিরে আসে।
ফেরত আসাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও ১৪ জন শিশু রয়েছে। তারা হলেন- অনন্য রায় (১৬), কামনা বিশ্বাস (১৭), উর্মি আক্তার (২১), নাদিরা শেখ (২৩), বৃষ্টি (৮), আবৃতি শীল (৮), রাবেয়া আক্তার (১৫), হোসনা আক্তার (১৪), জান্নাত শেখ (১৭), পূজাঁ রায় (১৫), আছিয়া খানম (৫), নাহিদ হাসান (১৩), তৃষা (১৭), ওলিদ খান (১৬), কথা মণ্ডল (৮), ফারজানা আক্তার (২২), প্রান্তী বিশ্বাস (১৮), তমারানি (১৯), জোগুনা বিবি (৬৫) ও রাকিব হোসেন (১৬)।
তারা দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, ঢাকা, পিরোজপুর, কেরানিগঞ্জ, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, গাজিপুর, বাগেরহাট ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
যারা ফেরত এসেছেন তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেইফ হোমের হেফাজতে ছিলেন। পরবর্তীতে এদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হলো।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় এসি ল্যান্ড, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদ্ধারকৃত এসব নারী-শিশুদের হস্তান্তর করেন।
এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসাদের পোর্ট থানার সোপর্দ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বিদোষ চন্দ্র বর্মন জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে এসব নারী-শিশুদের আনা হয়েছে। ফিরে আসা নারী ও শিশুদেরকে ৩টি মানবাধিকার সংগঠনের হাতে তুলে দেয়া হবে। এসব মানবাধিকার সংগঠন তাদেরকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে বলে জানান তিনি।


















