নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চলা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের পর এবার বিএনপিপন্থী শিক্ষকরাও স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়ে চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম। আর আগামী রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আবারো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা আগে থেকেই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছেন।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাদের আশ্বাস প্রদান করেন।
পরে শিক্ষক ফোরামের সকল সদস্যের সাথে পরামর্শ করে আমাদের চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা করছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি তাদের কথা রাখতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. খালেদউজ্জামান (মিজান) বলেন, আমরা প্রশাসনের আশ্বাসে আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবো। পোষ্যকোটার বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না। আর শুক্র ও শনিবার দুই দিন ছুটি। তাই আমরা আগামী রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবো।
রাকসু নির্বাচন হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ভালো জানেন। তবে সুষ্ঠু রাকসু নির্বাচন দিতে যা যা করনীয় তা যদি প্রশাসন করতে পারে তাহলে অবশ্যই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সাথে আলোচনা করে এর স্বাভাবিকতা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রাকসু নির্বাচন যথাসময়ে এবং ঘোষিত তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে। এর কোন ব্যত্যয় হবে না।


















