সোমবার , ১১ আগস্ট ২০২৫ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

বাঘায় জাল সনদে বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়ে ধরা পড়লেন বিএনপি নেতা

প্রতিবেদক
editor
আগস্ট ১১, ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাঘা সংবাদদাতা : শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে রাজশাহীর বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়েছিলেন বাঘা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম ওরফে তফি। পরে শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে তার জাল সনদের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরই প্রেক্ষিতে তার সভাপতির পদ বাতিল করতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান থাকতে হবে। তফিকুলের সেই যোগ্যতা নেই। তারপরও তিনি বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন।

সভাপতি হওয়ার সময় তফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সনদ জমা দেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বিএ পাস করেছিলেন দাবি করে সনদটি দেন। সনদটির রোল নম্বর ২৬০৫১২ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৫২২৬১। কিন্তু তদন্তে সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে।

নথিপত্রে দেখা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করে। এ কমিটিতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত হিসেবে সভাপতি হন বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম।

সম্প্রতি তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ হয় যে—তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে সভাপতি হয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। জেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহাব গত ৯ জুলাই শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তফিকুলের সনদটির সঠিকতা পাওয়া যায়নি।

এরই প্রেক্ষিতে ৭ আগস্ট শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি দেন। এতে বলা হয়, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তফিকুল ইসলামের সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার সভাপতির পদ বাতিল করে শিক্ষা বোর্ডে নতুন সভাপতির নাম প্রস্তাব করার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী দেওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তফিকুল ইসলাম যেভাবে আমাদের তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি। তবে এই সনদ জাল কি না, তখন সেটা জানতাম না। ওয়েবসাইট থেকে চিঠি ডাউনলোড করে দেখছি যে তার সনদটি জাল ছিল।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যোগ্যতা না থাকলেও তফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ মাস সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার জাল সনদের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে নালিশ করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় যুবদলের এক নেতাকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নেতা তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমি কোনো অভিযোগ করিনি। জাহাঙ্গীর নামে কোনো এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বলে শুনেছি। আমাকে সেই জাহাঙ্গীর মনে করে ফোন করে তফি ভাই হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাই আমি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছি।’

জাল সনদে সভাপতি হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা তফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার ইমেজ নষ্ট করতে এ ধরনের অভিযোগ করেছে। আর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাল সনদ নিয়ে অভিযোগ করতে হলে বোর্ডের অনুকূলে সাত হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। এ রকম ব্যাংক ড্রাফটসহ লিখিত অভিযোগ তফিকুলের সনদের ব্যাপারেও এসেছিল।

পরে সেটা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানো হয়। তদন্তে সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। এরপর প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।’

সর্বশেষ - অন্যান্য