নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসান মোহাম্মদ আলী দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেটিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। এর আগে সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুজ্জামান খান মানিক সেখানে গিয়ে ছাত্রদল নেতা হাসানের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। এসময় বিএনপি নেতা মানিক তার শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত এবং তার আশু রোগমুক্তি কামনা করেন। তিনি তার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।
আহতের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন চারঘাট পৌরসভা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক তুষার আলী এবং ছাত্রদল কর্মী সেন্টু। এদের মধ্যে সেন্টু রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহত যুবদল নেতা চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা সবাই রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের অনুসারী বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক তুষার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসানের বাড়ি মুক্তারপুরে। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-ঘাট, দলীয় নেতাকর্মী নিয়ন্ত্রণসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের এ দুই নেতার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
উভয়ের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে রোববার সকালে উপজেলার মাড়িয়া এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বাড়িতে উভয়পক্ষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আলোচনা চলাকালে তুষার ও হাসানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাসানের সমর্থক ছাত্রদল কর্মী মোমিন রড দিয়ে তুষারের মাথায় আঘাত করেন। তুষারের সমর্থকরা তাকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এসময় সমঝোতা বৈঠক ভণ্ডুল হয়ে যায়।
এ ঘটনার জের ধরে রোববার রাত পৌনে ১২টায় উপজেলার সরদহ ট্রাফিক মোড়ে ছাত্রদল নেতা হাসানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান আহত যুবদল নেতা তুষার এবং তার অনুসারীরা। এসময় তুষার ও তার সমর্থক শাহানুর ছাত্রদল নেতা হাসানকে কোপাতে থাকেন। হাসানের সমর্থক সেন্টু তাকে বাঁচাতে গেলে তিনিও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা হাসান ও সেন্টুকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে রামেক হাসপাতাল থেকে সোমবার রাতে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করে তুষার বলেন, ‘রোববার জেলা বিএনপির আহবায়ক চাঁদ ভাইয়ের উপস্থিতিতেই বিনা উসকানিতে হাসানের সমর্থক মোমিন ও আরো কয়েকজন সহযোগী আমার ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলার পর আমার সমর্থকরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তবে হামলার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত না।
চাঁদের অনুসারী চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, ‘ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। দ্বন্দ্ব মেটাতে চাঁদ ভাই তাদের ডেকেছিলেন। কিন্তু নেতার সামনেই তুষারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর তুষারকে দেখতে তার বাড়িতে যান চাঁদ ভাই। তিনি তুষারকে আর যেন কোনো ঝামেলা না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘তুষার নির্দেশনা অমান্য করে তার লোকজন নিয়ে হাসানের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি পঙ্গু হাসপাতালেই আছি। হাসানের অবস্থা সংকটাপন্ন।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিকটাত্মীয়রা আহতের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তারা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা হলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।


















