মোহাম্মাদ মাকছুদ উল্লাহ : সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদসহ ’২৪ এর বিজয়ে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী বেশ কয়েকজনের একটি ইসলামী দলের সাথে সম্পৃক্ত’ দলীয় পরিচয় প্রকাশিত হবার পর দেশব্যাপী পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরণের আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যেই তাঁরা নিজেদের অবস্থা ও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আমার বক্ষ্যমান নিবন্ধে এ বিষয়ে ইসলামের নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনা করব।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে তাঁর দ্বীন পাঠিয়েছেন মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু যুগে যুগে খোদাদ্রোহী শক্তি আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর যমীন থেকে মুছে ফেলে দিয়ে তাগুতের রাজ কায়েম করতে জুলুম-নির্যাতনের পথকে বেছে নিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্বীনের মিশন পরিচালনার পদ্ধতিও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর সেটা হলো, প্রতিকূল অবস্থায় আত্মগোপনে থেকে প্রয়োজন হলে শত্রু শিবিরে মিশে গিয়ে দ্বীনের মিশনকে অব্যাহত রাখতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ক্বাসাস এর ৭, ৮ ও ৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, আর আমি মুসা-জননীকে এ আদেশ করলাম যে, তুমি তাকে স্তন্য দান করতে থাক। অতঃপর যখন তুমি তাঁর সম্পর্কে বিপদের আশঙ্কা করবে, তখন তুমি তাঁকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করবে আর ভয় পাবে না এবং দুঃখও করবে না। আমি অবশ্যই তাঁকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিব এবং তাঁকে রাসুলদের একজন বানাব। (হজরত মুসার আম্মা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন) অতঃপর ফিরাউন পরিবার তাঁকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের ও শত্রু দুঃখের কারণ হতে পারেন। নিশ্চয়ই ফিরাউন, হামান ও তাদের সৈন্যবাহিনী অপরাধী ছিল। ফিরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। সে আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করবো। প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না।
হজরত মুসা (আ.) এর জন্ম এবং পরবর্তী ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে, এ বিষয়টি স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে ‘প্রতিকূল অবস্থায় আত্মগোপনে থেকে, প্রয়োজন হলে শত্রু শিবিরে মিশে গিয়ে দ্বীনের মিশনকে অব্যাহত রাখতে হবে। পৃথিবীর বিখ্যাত জালিম ফিরাউন যখন আল্লাহর যমীন থেকে আল্লাহর দ্বীনকে মুছে ফেলার জন্য দ্বীনের অনুসারীদের পুত্র সন্তানদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে লাগল এ উদ্দেশ্যে যে, ধরাপৃষ্ঠে যেন আল্লাহ নাম নেয়ার মত কোন মানুষ অবশিষ্ট না থাকে। ঠিক তখনই মহান আল্লাহ হজরত মুসাকে (আ.) দ্বীনের প্রধান প্রতিপক্ষ ও নিকৃষ্টতম শত্রু ফিরাউনের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত করেন। আর হজরত মুসা (আ.) রেসালাত লভের পর ফিরাউনের জুলুম ও দুঃশাষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সবশেষে ফিরাউন অত্যন্ত লাঞ্ছনাজনক পরিণতির শিকার হয়। উল্লিখিত আয়াতের শেষাংশে মহান আল্লাহ সেদিকে ইঙ্গিত করেই এরশাদ করেছেনে, ‘প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতীব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।


















