অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় “খুবই উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা শশী থারুর। এই রায় তাকে আতঙ্কিত করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সোমবার ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অনুপস্থিত অবস্থায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পালিয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
শশী থারুর সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে— মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই। তাই এ রায় আমাকে বিশেষভাবে আতঙ্কিত করেছে। অন্য দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়, তবে এটা যে ইতিবাচক কোনো ঘটনা নয়, তা বলতেই হবে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
#WATCH | Delhi | On ousted Bangladeshi Prime Minister Sheikh Hasina being convicted by a Bangladeshi Court, Congress MP Shashi Tharoor says, "Both domestically and abroad, I don't believe in the death penalty… Trial in absentia, when somebody doesn't get a chance to defend… pic.twitter.com/vksxisNrMK
— ANI (@ANI) November 17, 2025
প্রসঙ্গত, চব্বিশের জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে দেশে থাকা হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সব সম্পদ জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করবে সরকার।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হাসিনার এ মৃত্যুদণ্ড ভারতকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তারা বলেছে, এখন হাসিনাকে ফেরত পেতে বাংলাদেশ আরেকটি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ইস্যু করবে। যা এরইমধ্যে বাংলাদেশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন হাসিনা। এরপর তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ দুইবার প্রত্যর্পণ অনুরোধ ইস্যু করে। কিন্তু বাংলাদেশের এ অনুরোধে সাড়া দেয়নি ভারত। যদিও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে অপরাধীদের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।
বিবিসি বলেছে, ক্ষমতায় থাকার সময় হাসিনা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। এছাড়া ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো হাসিনাকে ফেরত না পাঠাতে একমত।
আর এসব বিষয় ভারতকে ফেলেছে জটিল পরিস্থিতিতে। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ভারত এখন বেকায়দায় থাকবে। কারণ তারা যদি হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বাংলাদেশ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য করবে। যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ করবে।


















