নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই।ব্যবসায়ীরা যেন রাজনীতিবিদদের কাছে না যান, বরং রাজনীতিবিদরা যাতে ব্যবসায়ীদের কাছে যান। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভাগীয় ব্যবসায়ী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই আমরা সব কাজ শেষ করে ফেলেছি, সময় নষ্ট করব না। ক্ষমতায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত আসতে থাকবে। হাসিনার পতনের পর মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন হয়েছে, এটা রাজনীতিবিদদের বুঝতে হবে। এখন মানুষের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী।রাজনীতিবিদদের এটা বুঝে নিয়ে, এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। ব্যবসায়ীরা যেন রাজনীতিবিদদের কাছে না যান, বরং রাজনীতিবিদরা যাতে ব্যবসায়ীদের কাছে যান। ঢাকায় বসে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় শিল্প, কৃষি নিয়ে, কিন্তু স্বচক্ষে গিয়ে দেখা হয় না, যাদের জন্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, তাদের সাথে সংযোগ আছে কি না, সে সংযোগ থাকে না।
এখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দলের পক্ষ থেকে সব বিভাগে যাচ্ছি। তাদের কথা শোনার ও বোঝার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, এই সংস্কৃতি আনতে চাই। আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হতে চাই না, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্ষমতায় নির্বাচিত হলে, আবার আমরা ফিরে আসব, আপনাদের কথা শুনব, প্রশ্নের সম্মুখীন হব।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষিতে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কাজ করতে শুরু করেছে, এটা সুখবর। তাদের মাঝে আধুনিক জ্ঞান আছে। দক্ষতার প্রয়োজন আছে, প্রযুক্তির প্রয়োজন আছে।’
বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, ‘বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে যাব।
চাকরি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনীতিতে আমরা বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছি। পুরনো ধাঁচ থেকে আমরা বের হয়ে যাচ্ছি। বিএনপির সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিকে গণতন্ত্রীকরণ করতে হবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ পায়, ‘ইকুয়াল পার্টিসিপেশন’ হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ন্যায্য হিস্যা সাধারণ মানুষের কাছে যায় না।
কুটির শিল্প যেগুলো আছে, সেগুলো অনেক বড় শিল্প। ওইভাবে সুযোগ দিতে পারিনি। কামার, কুমার আছে, শীতল পাটি যারা করে, তাদের জন্য সরকারের বাজেটে বড় অংশ থাকবে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট করানো হবে, কারুশিল্পে যারা আছে, তাদের ডিজাইনিং সাপোর্ট দেব এবং তাদের ব্র্যান্ডিং করব। এতে তাদের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এসব সুযোগ তাদের জন্য সৃষ্টি করে দেব। থাইল্যান্ডে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ চালু আছে, বাংলাদেশে আমরা এটা করতে চাই।’
আমীর খসরু বলেন, ‘ডিরেগুলেশন’-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে আসব। যত কম অফিসে যেতে হয়, তত বেশি দুর্নীতি কমে আসবে। তাদের হাতে কন্ট্রোল থাকলে দুর্নীতি বাড়বে। সরকারের হাত থেকে কন্ট্রোল কমাতে হবে, জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে চাই। ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করব। কোন সেক্টরে কত লোক চাকরি পাবে, তা তুলে ধরব। কল সেন্টারে, ডেটা সেন্টারে বিভিন্ন সেক্টরে তারা কাজ করবে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কেন্দ্রিক সব উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সব অঞ্চলকে ক্ষমতায়ন করতে হবে। উন্নয়ন করব, কিন্তু মেগা প্রজেক্ট করে টাকাপয়সা নষ্ট করব না। সব নাগরিককে অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে।’
আমীর খসরু বলেন, ‘রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। জোর করে একটি মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি আমাদের ওপর, জনগণের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের সই হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে নতুন দাবি আনছে। তাদের দাবি মানতে হবে, না হলে এটা হবে ওটা হবে। মতামতের জন্য ঐকমত্য কমিশন রাখা হয় নাই। ঐকমত্য কমিশনকে মতামত জনগণের ওপর চাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই।’
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনুসহ বিভাগের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইণ্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি লুতফর রহমান।


















