মঙ্গলবার , ৮ জুলাই ২০২৫ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

এবার আমরা সংসদ ভবন জয় করতে চাই : নাহিদ

প্রতিবেদক
editor
জুলাই ৮, ২০২৫ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা গণভবন জয় করেছি। এবার আমরা সংসদ ভবন জয় করতে চাই। রোববার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহীতে জুলাই পদযাত্রা শেষে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন। আর এবার আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের পুনর্গঠন। ৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল গণভবন। এবার আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সংসদ ভবন। আমরা গণভবন জয় করেছি, এবার আমরা জাতীয় সংসদ ভবনও জয় করতে চাই। তবে তার আগে কথা আছে। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণহত্যাকারী খুনি হাসিনার বিচার আমরা দেখতে চাই। সংস্কার দেখতে চাই এবং নতুন সংবিধান দেখতে চাই। এই প্রজন্ম বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে দেশের মানুষকে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দেবে, যে সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে। ইনসাফ নিশ্চিত করবে। স্বৈরতন্ত্র এবং পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে এই বাংলাদেশ থেকে। মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে চাই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী ঐতিহ্যের নগরী। রাজশাহী জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির নগরী। এই পদ্মার পারে রাজশাহী যুগ যুগ ধরে টিকে ছিল। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী এই রাজশাহী থেকে ফারাক্কা লংমার্চ শুরু করেছিলেন।’

এনসিপির আহবায়ক নাহিদ বলেন, আপনারা প্রস্তুত হোন। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে দেখা হবে। আমরা জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র আদায় করে ছাড়ব। যারা বলে, জুলাই কেবল আবেগের বিষয়। যারা বলে, জুলাইকে কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার দরকার নেই, তাদের দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণ আবারো মুজিববাদ ও মুজিববাদী সংবিধানের বিরুদ্ধে একত্রিত হবে। যারা জুলাইকে সংবিধানে জায়গা দিতে চায় না, কোনো আইনি কাঠামোতে জায়গা দিতে চায় না। তারা মুজিববাদের রাস্তা তৈরি করতে চায়। তারা মুজিববাদের নতুন পাহারাদার হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, রাজশাহীতে কর্মসংস্থান থাকবে। শিক্ষা থাকবে। রাজশাহীতে শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। উন্নয়ন মানে কেবল ঢাকার উন্নয়ন নয়। উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। এটার জন্যই সংস্কার, এটার জন্যই জুলাই পদযাত্রা। এই পদযাত্রা নতুন দেশ গঠনের যাত্রা। আমরা নতুন দেশ উপহার দিব বাংলাদেশের জনগণকে।

এসময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্যসচিব আখতার হোসাইন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘চিপায় পড়ে’ ডিসি-এসপিরা ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, ‘ডিসি-এসপিদের বলছি—আপনারা যে ভালো ব্যবহার করছেন, আমরা জানি, আপনারা চিপায় পড়ে আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন। যদি হাসিনার পতন না হতো, তখন এই ডিসি-এসপিরাই গণভবনেই প্রমোশনের জন্য লাইন ধরত।’

সাংবাদিকদের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের দেখছি। আমরা সাংবাদিকদের ওপরে নজর রাখছি। এই সাংবাদিকেরাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার জন্য লেগেছিল।’

তিনি বলেন, ‘এই তরুণ সমাজ আর দালালি করতে চায় না। কারও তাঁবেদার হতে চায় না। তরুণ সমাজ আর স্বৈরাচার হতে চায় না। সুতরাং, যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা জেনে রাখুন, আপনারা এই তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই জেন-জির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দাড়িপাকাওয়ালা মুরব্বিরা ফেইল করেছেন। বাবারা ফেইল করেছেন। তখন সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যারা প্রশাসনে আছেন, আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনারা ক্ষমতাপন্থী হবেন, আপনারা ভুল করছেন। আপনারা ভুলে যাবেন না, ১৬ বছরের ডিসি-এসপিদের কী পরিণতি হয়েছে। আপনারা ভুলে যাবেন না, এই দিন দিন না, আরো দিন আছে। আমরা আপনাদেরকে বলব না, আপনারা এনসিপিপন্থী হোন, আওয়ামীপন্থী হোন। রাজনীতিপন্থী হওয়ার কী পরিণতি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টে সুযোগ হয়েছে। এই ডিসি-এসপিদের যদি কেউ স্বৈরাচারের পক্ষে অবস্থান করে, যদি কেউ মিডনাইট ইলেকশনে সহযোগিতা করে, এই বাংলাদেশে আর তার জায়গা হবে না।’

গোয়েন্দা সংস্থারও সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের এজেন্সিরা যারা রয়েছে, বাংলাদেশের যারা গোয়েন্দা সংস্থা আছে তারা জানে না, বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র হয়। তারা জানে না, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে ফেলতে কী ষড়যন্ত্র হয়। তারা একটি রাজনৈতিক দলকে আরেকটা দলের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। আপনারা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আমরা আপনাদেরকেও দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করি নাই। সুতরাং, সংস্কার ছাড়া, বিচার ছাড়া যদি ভোটের চেষ্টা করা হয়, আমাদের বুকের ওপর দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে হবে। আমরা নির্বাচন চাই, অবশ্যই চাই। তবে সেটা সংস্কারসহ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ। আবার দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য আপনারা প্রস্তুতি রাখুন।’- বলেন তিনি।

সর্বশেষ - অন্যান্য