অনলাইন ডেস্ক: আগামী রোববার থেকে খুলছে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত দেয়া হলেও এখনি খুলবে না শহরের স্কুলগুলো। দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও নরসিংদীর পৌর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখনই খোলা হচ্ছে না।
প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন, আগামী রোববার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকা ও নরসিংদী পৌর এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধই থাকবে। এই এলাকার বিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহাম্মদ আরো বলেন, ক্লাসের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের রুটিন অনুযায়ী পাঠদান চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার কারফিউর সময় অনুযায়ী শ্রেণীকক্ষের সময় কমানো কিংবা বাড়ানো যাবে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।
এর আগে, কোটাসংস্কারকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যদিও জুলাইয়ের শুরুতেই পেনশন এবং কোটা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পেলে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে আসে শিক্ষাব্যবস্থায়। গত ১ জুলাই থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। একপর্যায়ে কোটা আন্দোলনে ব্যাপক সঙ্ঘাতে শিক্ষার্থীসহ ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।
সূত্র মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে তিন কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর বাইরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আরো প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। এভাবে টানা বন্ধের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় প্রায় সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।


















