শনিবার , ২১ জুন ২০২৫ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

রাজশাহী কলেজের ভবনে শহীদ রায়হান আলীর নাম বিকৃতি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রতিবেদক
editor
জুন ২১, ২০২৫ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই বিপ্লবে রাজশাহী কলেজের একমাত্র শহীদ রায়হান আলীর স্মরণে একটি নতুন ভবনে তার নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কতৃপক্ষ। তবে সেই নামকরণে নাম বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে কলেজ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নতুন দশ তলা ভবনের নামফলকে ‘শহীদ রায়হান আলী ভবন’ এর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘শহীদ রায়হান ব্যবসায় প্রশাসন ভবন’।শুক্রবার (২০ জুন) বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকেই এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহীতে ছাত্রজনতার ওপর পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আইসিইউয়ে তিনদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট শাহাদাতবরণ করেন রায়হান আলী। তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভবনের নামকরণ হলেও ‘আলী’ শব্দটি বাদ দিয়ে এবং বিভাগীয় নাম জুড়ে দিয়ে শহীদের পূর্ণ পরিচয় বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী দোসরদের প্রত্যক্ষ মদদে পরিকল্পিতভাবে শহীদের নামকে খাটো করতেই এ প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে। শাহাদাতের মাত্র এক বছর না পেরোতেই শহীদের নাম নিয়ে এমন এধরণের হঠকারিতা হলে ভবিষ্যতে হয়তো তার অবদান সব জায়গা থেকেও মুছে ফেলা হবে। ছাত্র-জনতার রক্ত পেরিয়ে গুরু দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদদের অবমাননা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না বলেও প্রশাসনকে সতর্ক করেন তারা।
জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাফিন বলেন, শহীদের ‘আলী’ বাদ দিয়ে শুধু ‘রায়হান’ বলার মানে তার প্রকৃত পরিচয় মুছে ফেলা হয়েছে। এটা কোনো সাধারণ নাম নয়, একজন শহীদের নাম। নাম বিকৃতি মানে ইতিহাস বিকৃতি।

রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক এই দশতলা ভবনটির নাম শহীদ রায়হান আলীর নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা তখন প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে সকল ভবনের নাম স্বৈরাচারদের নামে রয়েছে, সেগুলোর নাম জুলাই বিপ্লবের শহীদদের নামে নামকরণ করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এই ভবনের নাম শহীদ রায়হান আলীর নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে শহীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ব্যবহার না করে সংক্ষিপ্ত ও বিকৃতভাবে নামটি টানানো হয়েছে, যা শহীদের প্রতি অসম্মান। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম যে নামটি ভুল হচ্ছে। এরপরও কেন ভুল নাম টানানো হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। এনিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদদের নাম বিকৃতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমরা শুরু থেকেই শহীদ শাকিব আঞ্জুমের পুরো নাম ব্যবহারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কলেজ প্রশাসন তখন শুধু ‘সাকিব’ কিংবা ‘আঞ্জুম’ নামটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তখনই আমরা বলেছিলাম, একজন শহীদের পূর্ণ নাম ছাড়া তার পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ঠিক একইভাবে শহীদ রায়হান আলীর ক্ষেত্রেও যদি শুধু ‘রায়হান’ নাম ব্যবহার করা হয় তাহলে তার ইতিহাস ও পরিচয় বিকৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, কলেজ প্রশাসন বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছি না তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কেন শহীদদের নামকে ছোট করার চেষ্টা করছে। এই কলেজ ও ভবন যাদের রক্ত ও ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে সেই শহীদের নাম বিকৃত করা মানে তাদের সম্মানহানি এবং ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও নিন্দনীয়।

এদিকে শহীদের নাম বিকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা হয়তো লেখার সময় ভুলবশত আলী শব্দটি বাদ দিয়েছেন।’ তবে আলী শব্দ বাদ পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ভুল নামফলক লাগানোর প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, ‘এটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা বলতে পারবেন। তবে পরবর্তীতে এটা সংশোধন হতে পারে।’

সর্বশেষ - অন্যান্য