নিজস্ব প্রতিবেদক : একদশক ধরে দেশজুড়ে বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে রাজশাহীর ‘স্যাট একাডেমী’। প্রতিষ্ঠানটি এখন সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ‘শিক্ষা হবে উন্মুক্ত, হবে বাণিজ্যমুক্ত’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে স্যাট একাডেমি।
বর্তমানে স্যাট একাডেমিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেখাপড়া করে চলেছেন প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী; যেখানে মোট প্রশ্নসংখ্যা আছে ২০ লাখেরও বেশি। স্যাট একাডেমিতে দৈনিক গুগল সার্চ ক্লিক হয় প্রায় ২ লাখ এবং যেখানে ১০ হাজারের বেশি মডেল টেস্ট দিতে পারে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এখন পর্যন্ত একাডেমীতে ফ্রি ওয়েব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজারের বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী থেকে যাত্রা শুরু করা স্যাট একাডেমি এখন শুধু একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি মিশন, একটি নিরব বিপ্লব এবং একটি জাতির জেগে ওঠার গল্প হয়ে উঠেছে। এখানে ১ম থেকে দ্বাদশ শ্রেনী, ভর্তি প্রস্তুতি, চাকরি প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্যোক্তা ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র প্যানেল, বই কালেকশন, সাম্প্রতিক প্রশ্নব্যাংক, প্রশ্নপত্রের হার্ডকপি, বিভিন্ন বিষয়ের উপর শর্ট হ্যান্ড নোট, স্টাডি প্ল্যানসহ স্যাট একাডেমিতে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সেবা নিচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং একই প্ল্যাটফর্ম থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্যাট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এমএ রহমান আজিজ বলেন, ‘স্যাট একাডেমী শুধু একটি পণ্যের গল্প নয়, বরং এক সুপ্ত মিশনের আলোকছটা’। তিনি জানান, ২০১৩ সালে মানসিক প্রস্তুতি ও ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে স্যাট একাডেমি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একা হাতে গড়ে তুলেছেন এই প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তার দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম, জীবনের আয়ের প্রতিটি পয়সা, দক্ষতা ও সময় বিনিয়োগ করা হয়েছে। সামাজিক বাধা, অবজ্ঞা, গুজব এবং প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতির মাঝেও তিনি লক্ষ্যচ্যুত হননি। একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের স্বপ্নে আজো তিনি অটল।
সাংবাদিক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে মানবিক আহ্বান জানিয়ে প্রতিষ্ঠাতা রহমান আজিজ বলেন, আপনারাই জাতির বিবেক, আপনারাই সমাজের আয়না। সত্য প্রকাশই সাংবাদিকতার প্রকৃত কাজ।
শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা শুধু পাঠ দেন না, জীবন গড়েন। আপনারা যেমন আত্মবিশ্বাস শেখান, আমি বলি, এগিয়ে চলো।
আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠাতা আজিজ বলেন, বর্তমানে স্যাট একাডেমির দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও প্রযুক্তি কাঠামো ধরে রাখতে যে পরিমাণ আর্থিক ব্যয় হয়, তা একা বহন করা কষ্টসাধ্য। তাই এই স্বপ্নকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে, এটি শুধু আমার নয়—পুরো জাতির দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন একটি টাকার বিনিময় ছাড়াই শিক্ষার এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে আমরা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পাই।
স্যাট একাডেমির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় (ভিশন-২০৩০), দেশের ৬৪ জেলায় অফলাইন সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সহযোগিতা, গ্রামীণ অঞ্চলে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, দক্ষ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকারের উচিত এমন যুগান্তকারী উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারিত করতে সহযোগিতা করা। যেন সারাদেশের তরুণ সমাজ এই ডিজিটাল শিক্ষাবিপ্লবের সুফল পেতে পারে। শিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন এক বিকল্প পথ তৈরির যে স্বপ্ন স্যাট একাডেমি দেখাচ্ছে তা আজ সময়ের দাবি বলেও মনে করেন তারা।


















