মঙ্গলবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ

প্রতিবেদক
editor
জানুয়ারি ২৮, ২০২৫ ১২:০৩ অপরাহ্ণ

হাবিব আহমেদ : গত ১০ বছর থেকে সরকারের নির্ধারণ করা ধান সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর। সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া ধান মজুদ করতে না পারার জন্য দিনদিন বাড়ছে দাম। মজুদ না থাকায় মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে ধানের দাম বেড়েছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ। বিশেষ করে গত ১০ বছর ধরে তিন মওসুমের উৎপাদিত ধানেও রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া ধান মুজদ করতে পারেনি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে এই দপ্তর।

বিশেষ করে গত ৫ বছরের কোনো মুসওমেই নির্ধারিত পরিমাণ ধান মজুদ দেখাতে পারেনি রাজশাহীর খাদ্য অধিদপ্তর। গত ৫ বছরে প্রতি মওসুমে নির্ধারিত মজুদের গড়ে প্রায় ১ দশমিক ২২ শতাংশ অর্জন হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন করছে। তারপরও রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া ধান সংগ্রহের ধারের কাছে যেতে পারছে না। কৃষি অফিস সফলতা দেখালেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। তবে রাজশাহী কৃষি অফিসের তথ্যমতে গত এক যুগে রাজশাহীতে বোরো ধানের জমি কমেনি, বরং জমি ও উৎপাদন বেড়েছে।

আর খাদ্য অধিদপ্তর বলছে বাজারে ধান নেই, যা আছে তার দাম সরকারের বেধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি। আবার অনেকই বলছে, কৃষি অফিসের তথ্য সঠিক নয়। তাদের তথ্য এমন ‘কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। অনেকেই বলছে, গত ১৫ বছরে কৃষিখাত ধংস করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলার ন্যায় রাজশাহীর কৃষি বিভাগ আগামী ২০ বছরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
রাজশাহী কৃষি অফিসের সূত্র মতে, রাজশাহীতে খাদ্যশস্যের আবাদ হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমিতে।

এরমধ্যে বোরো ধানের আবাদ হয় প্রায় ৭০ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫৮ মে.টন, আমন ধানের আবাদ হয় প্রায় ৮৩ হাজার ১৭৭ হেক্টর, ধান উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৫২২ মে.টন, আউশ ধানের আবাদ হয় ৪৯ হাজার ৮শ’ ৬৭ হেক্টর, ধান উৎপাদন হয় ১৭ হাজার ২শ ৭৭ মে.টন। বিভিন্ন কারণ বসত মওসুম ভেদে এই জমির পরিমান কিছুটা কম বেশি হয়।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগ দেয়া এক মওসুমের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে রাজশাহী বিভাগে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৮৪৫ টন। এ মওসুমে সংগ্রহ করা হয় ১ হাজার ১০৮ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ১ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০২১-২২ মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হাজার ৪০৪ টন। সংগ্রহ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৫ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ১২ শতাংশ। ২০২২-২৩ মৌসুমে পুরো বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৭৬৭ টন।

সে বছর সংগ্রহ করা হয় মাত্র ৭ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৫৫৬ টন। ওই বছর সংগ্রহ করা হয় ৩ হাজার ৪৮২ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৫৬ হাজার ৩৫৯ টন আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৯৫ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। কৃষি অফিস বলছে রাজশাহী জেলায় আমন মওসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৫২২ মে. টন। আর সরকার পুরো বিভাগ থেকে ধান সংগ্রহ নির্ধারণ করেছে ৫৬ হাজার ৩৫৯ টন। সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩শ’ ৯৫ টন। এখন প্রশ্ন হলো আমন মওসুমে কৃষি বিভাগের উৎপাদিত এই বিপুল পরিমাণ ধান গেলো কোথায়।

অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, গত ২০১২-২০১৩ সালে রাজশাহীতে বোরোর জমি ছিল ৬৮ হাজার ৪৫ হেক্টর, আমনের জমি ছিল ৭০ হাজার ৮শ’ ৯৪ হেক্টার ও আউশের জমি ছিল ৩৮ হাজার ৭শ’ ১২ হেক্টর। ৫বছর পর ২০১৬-১৭ সালে বোরোর আবাদযোগ্য জমির পরিমান দেখানো হয় ৬৭ হাজার ২৬৩ হেক্টর, আমন ৭৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর, আউশ ৪০ হাজার ২৬৯ হেক্টর। আবার ২০২৪-২০২৫ সালে বোরোর জমি দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার ২৬৫ হেক্টর। আমন দেখানো হয়েছে ৮৩ হাজার হেক্টরের উর্ধ্বে ও আউশের জমি দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর।

রাজশাহী কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বোরো, আমন আউশের কোনো জমি কমেনি বরং বেড়েছে। মূলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বোরোর জমিনেই আমন আউশের চাষ হয়। অথচ ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বোরোর জমিতে পুকুর খনন করে কি পরিমান জমি নষ্ট হয়েছে তার কোনো হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে নেই। বেসরকারীভাবে হিসাব অনুযায়ী রাজশাহীতে বোরোর জমিতে পুকুর খননের জন্য প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমি কমে গেছে।

আর ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পুকুর খনন করার জন্য অনাবাদি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি। অথচ কৃষি বিভাগের খাতায় ২০১৩ সাথে বোরো যে জমি ছিল তা না কমে বেড়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এমন কি কৃষি বিভাগ ও মৎস বিভাগের কাছে এসব হিসেব নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি অফিস বোরো, আমন আউশের যে জমি দেখায় সেটার কোনো ভিত্তি নাই। বিষয়টি এমন ‘কাজির গরু কাগজে আছে, গোয়ালে নেই’।

কাগজ কলমে ধান উৎপানের জমি দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে এই পরিমাণ জমিতে ধান উৎপাদন হয় না। যদি তাই হতো তাহলে বরেন্দ্র অঞ্চলে অন্তত ধান চালের দাম খুব বেশি দাম বাড়তো না। এতো চাহিদা থাকতো না। নির্ধারিত পরিমাণ ধান মজুদ থাকতো সরকারের সংগ্রহে। ধান সংগ্রহে ব্যর্থ হতো না খাদ্য অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, কৃষি বিভাগের ভুল তথ্যের কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতির শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ যে উৎপাদন দেখায় বাস্তবে তার কোনো মিল নেই। কৃষি বিভাগের উৎপাদন খাতা কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তারা মাঠ পর্যায়ে জরিপ না করেই একটি বছরের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই পরিমাণ চাষ হয় কি না সেটাও তারা জানে না। এমন কি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও তাদের মনগড়া তালিকা মাত্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, কৃষি অফিসের এমন সাজানো গোছানো কাহিনীর পেছনে রয়েছে মহা দুর্নীতি। কারণ কৃষি অফিসের কর্তা বাবুরা ধানের জমির জরিপ না করে মনগড়া ভাবে পরিমান উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই মোতাবেক কৃষি মন্ত্রনালয় বরাদ্দ দেয়। ধানের জমি কম দেখালে বরাদ্দ কম, বেশি দেখালে বরাদ্দ বেশি। দুর্নীতি করার জন্য মুলত কৃষি বিভাগ এধরনের কাজ করে থাকে।

এব্যাপারে রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন পুকুর খননের জন্য রাজশাহীতে কি পরিমান বোরোর জমি কমেছে সেটার কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে মৎস বিভাগ এই হিসাব দিতে পারবে। তিনি বলেন, আমাদের বোরো বা অন্যান্য মওসুমের ধানের জমি কমেনি বরং বেড়েছে। আমরা উন্নজাতের ধান উৎপাদন করছি। যার কারণে প্রতি মওসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বোরোর নষ্ট জমির হিসাব কেই কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা আমাদের কাজ না।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মোঃ জাহেদুল ইসলাম বলেন, বাজারে ধান থাকলে তবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। বাজারে চাহিদামত ধান নেই। আবার সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজারে তার চেয়ে দেড়-দুইশ টাকা বেশি দিয়ে কৃষকরা বিক্রি করছে। তাহলে কেনো তারা সরকারকে ধান দিবে। তিনি বলেন উৎপাদন বেশি হলে দাম কমতো। কিন্তু উৎপাদনই তো নাই। তাহলে দাম কমবে কি করে। তিনি বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে কোনো মওসুমেই সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ধান সংগ্রহ হয় না। ্এবারও হয়নি।

মূলত, প্রতি মওসুমে সরকারীভাবে ধান চাল সংগ্রহের উপর ভিত্তি করে ধান চালের বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়। উৎপাদন কম হলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। সরকার সেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মজুদ রাখা খাদ্যশস্য বাজারে ছেড়ে দিয়ে দামের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেই জায়গা থেকে গত ১০ বছর সরকারের মজুদ কম। বাজার অস্থিতিশীল হলেও মজুদ না থাকায় সরকার পণ্য বাজারে ছাড়তে পরে না। যার কারণে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে না।

সর্বশেষ - অন্যান্য

আপনার জন্য নির্বাচিত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরলেন জোসেফ, চোটে ছিটকে গেলেন রাসেল

২০২৭ থেকে ২৯ সালের মধ্যে বিজেপির ক্ষমতা শেষ : মমতা

বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি বিজেপি সভাপতির

দিনের বেলা ঘুমাতে ভালোবাসেন? জেনে নিন কী হয়

পাকিস্তানি রেঞ্জারকে আটক করল ভারত, নিয়ন্ত্রণরেখায় ভয়াবহ সংঘর্ষ

যেভাবে বিসিবি পরিচালক হচ্ছেন রুবাবা দৌলা

মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে রাখা বেআইনি : হাইকোর্ট

হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত শুরু

মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহিফল

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মারা গেছেন