হাবিব আহমেদ : ‘মানবতার ফেরিওলা’ লক্ষীপুরের নোঙর খানায় বাড়ছে অসহায়, ছিন্নমুল, পথচারি, মুসাফির, বিপদগামি, মিসকিনদের ভীড়। লক্ষীপুর যাত্রী ছাউনিতে রাতের খাবার খেতে সন্ধ্যা হলেই উপস্থিত হন অসহায় মানুষ। অন্তত রাতে পেটভরে খাবার পেয়ে খুশি হচ্ছেন অসহায় মানুষ। গত ২৫ ডিসেম্বর স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মানবতার ফেরিওলা সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে নগরীর লক্ষীপুর ছাত্রী ছাউনিতে রাতের খাবারের উদ্বোধনের পর গত ৮ দিনে প্রায় ৩শ’ অহসায় ছিন্নমুল মানুষ খাবার পেয়েছেন।
প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে অসহায় মানুষের ভীড়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মানুষকে বসে থাকতে দেখা যায় লক্ষীপুর যাত্রী ছাউনির মধ্যে। এরা সবাই ছিন্নমুল মানুষ। কেউ থাকেন, রাস্তায়, কেউ বা মাজারে। মূলত রাজশাহী শাহমখদুম মাজার সংস্কার করার জন্য এখন আগের মত অসহায় মানুষদের দেখা যায় না। সংস্কার কাজ চলায় এখানে আর তেমন কেউ যান না খাবার বিতরণের জন্য। এজন্য তীর্থের কাকের মত খাবারের জন্য চেয়ে থাকা মানুষগুলো অনেকটাই চিন্তিত। কিন্তু খনার বচনে মানুষ বলে থাকেন, এক দুয়ার বন্ধ হলে হাজার দুয়ার খোলা। ঠিক এই কথাটির মতই অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মানবতার ফেরিওলা সমাজ কল্যান সংস্থা। কোথাও খাবার না জুটলেও মানবতার ফেরিওলার দরবার থেকে খালি পেটে ফেরেন না কেউ।
ছেঁড়া চাদর গায়ে লক্ষীপুর যাত্রী ছাউনিতে বসে ছিলেন নুর হোসেন। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। তিনি ১৬ বছর যাবৎ রাজশাহী নগরীতে অবস্থান করছেন। তিনি রাতের খাবার খেতেন শাহমখদুম মাজারে। মাজারে রাতের খাবার সেভাবে আর মেলে না। তাই অনেক আগেই লক্ষীপুরের যাত্রী ছাউনিতে এসে বসে আছেন নুর হোসেন। তিনি বলেন, দিনভর ভিক্ষা করি। বয়স হয়ে গেছে, বেশি হাটাহাটিও করতে পারি না। থাকতাম শাহমুখদুম মাজারে। ওখানেই খাবার খেতাম। কিন্তু এখন মাজারে খাবার প্রায় বন্ধের পথে।
এখন তিনি রাতের খাবার খান লক্ষীপুরে। তানোরের ফাতেমা বেগম। থাকেন দাসপুকুরে পরিচিত ব্যক্তির বাসায়। আগে তিনি বাড়ি বাড়ি চেয়ে খাবার খেতেন। এখন লক্ষীপুরে খাবার খান। তিনি বলেন, সারাদিন চেয়ে চিন্তে যা পাই তা দিয়ে চলে চিকিৎসা। অনেক রাত না খেয়েও পার করেছি। কিন্তু লক্ষীপুরে খাবার দেয়ার বিষয়টি শুনে এখন প্রতিদিন এখানে এসে খাবার খাই। শাহমখদুম মাজারে থাকেন বনি। তার পরিবারে কেউ নাই। তিনি মাজারে থাকেন, সেখাই খান, সেখানেই ঘুমান। তিনি এসেছেন লক্ষীপুর যাত্রী ছাউনিতে খাবার খেতে। তিনি বলেন, এখন খাবার দেয়া মানুষের বড়ই অভাব। মাজারে আর আগের মত খাবার পাওয়া যায় না।
যার কারণে সেখানে থাকা লোকজন সব দিকবিদিক হয়ে বিভিন্ন দর্গায় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে জানতে পারি লক্ষীপুরে খাবার দেয়া হয়। জানতে পেরে কয়েকদিন থেকে এখানে রাতের খাবার খাচ্ছি। এখানকার খাবারের মানও ভাল। মানবতার ফেরিওলা সমাজ কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম বলেন, আমার এখানে যে কেউ খাবার খেতে পারে। অসহায় বা ভিক্ষুক নয়, এখানে পথচারি বিপদগ্রস্ত কিম্বা দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষও খাবার খায় বা খেতে পারেন। যতজনই হোক না কেনো আমরা তাদের রাতের খাবার নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, আলহাজ মাওলানা তসলিম আহমেদ বৃদ্ধাশ্রমের ব্যানারে নগরীর লক্ষীপুরে উপকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।


















