অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ছাত্র রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না সেটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের বড় ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এর ছাত্র সংগঠনের দলীয় লেজুড়বৃত্তি চর্চা শুরু হয়।
এটি আরো প্রকট হয়ে ওঠে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায় থাকাবস্থায়। প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সোচ্চার না হয়ে এ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নিপীড়ন, ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, যেসব কারণে সরকার ৭৫ বছরের প্রাচীন এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করলো এর ফলে পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির সেসব জায়গায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি?
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অঙ্গ সংগঠন বা ছাত্র সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকবে না এ বিষয়টি এখন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় হয়েছে।
আর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়েই যদি এ বিষয়টি করা যায়, তবে ভবিষ্যতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠনগুলোর কাছে একটা বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে ভবিষ্যতে ছাত্র রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে কি না সেটি এখনই বলার সময় হয়নি। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার বিষয়টি এতে জড়িত।
একইসাথে নির্বাহী প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ না করে জনসমর্থনের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ হলে সেটি বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


















