নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ এখন এতিমের বাচ্চা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ বলত, বিএনপির নেতা কে? আর আজ যদি আমরা বলি, আওয়ামী লীগের নেতা কে? আওয়ামী লীগের কোনো নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কোথায়?’ আওয়ামী লীগ এখন এতিমের বাচ্চা হয়ে গেছে। কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীতে আয়োজিত বিভাগীয় শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর আলুপট্টি মোড়ে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এখনো আমরা সরকারে যাইনি, মাথায় রাখতে হবে। সংগঠিত হতে হবে, আগামী দিনের জন্য তৈরি হতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নেতা (তারেক রহমান) বলেছেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। যেদিন ভোট হবে, ভোটের মধ্য দিয়ে মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে তার ভোট দিতে পারবে। সেদিন আমরা বুঝব দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। এ জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপির পতাকা যেন সারা বিশ্বে তুলে ধরতে পারি।’
এসময় আওয়ামী লীগ এখন এতিমের বাচ্চা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ বলত, বিএনপির নেতা কে? আর আজ যদি আমরা বলি, আওয়ামী লীগের নেতা কে? আওয়ামী লীগের কোনো নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কোথায়?’ আওয়ামী লীগ এখন এতিমের বাচ্চা হয়ে গেছে। কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা শুধু পালিয়েই যাননি, এ দেশ থেকে তার নাম-নিশানা পর্যন্ত মুছে গেছে। তার দল করার মতো লোকজনকেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এত চুরি তারা করবে, তা দেশের মানুষও বুঝতে পারেনি। বাংলাদেশে এত চুরি শেখ মুজিবের দল দেখাবে, সেটা বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারেনি। সকল ব্যাংক তারা লুটপাট করেছে। এই যে রাজশাহী জুটমিল, তারা বন্ধ করে দিয়েছে। সারা বাংলাদেশে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে। জনগণকে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থেকে চলমান আন্দোলন ধরে রাখতে হবে। নেতাকর্মীদের দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।’
শামসুজ্জামান দুদু সমাবেশে বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা ভারতের দালাল, এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। আন্দোলন এখনো থেমে যায়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অতীতের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে বিএনপি।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামীলীগ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারণ ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে মানুষ মনে করতেন না। তিনি নিজেকে সব থেকে বেশী ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সন্ত্রাসী, নির্যাতনকারী বাকশালী সরকারের পতন ঘটে এবং খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান লালু, হাবিবুর রহমান হাবিব, ইঞ্জিনিয়ার খালিদ চৌধুরী পাহিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। সমাবেশ সঞ্চালন করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মামুন অর রশীদ ও জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন। সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি আলুপট্টি মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আবার আলুপট্টি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।


















