নিজস্ব প্রতিবেদক : ঐতিহাসিক রাজশাহী কলেজ মাঠে শহীদ আলী রায়হানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলী রায়হান রাজশাহী কলেজের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরেরর রাজশাহী মহানগরী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি।
তার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাধ্যমে জালেম সরকারের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। এখন যদি কেউ আবারো বাংলাদেশে দুর্নীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ। জনগণ যাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে পারে, বিশ^াসঘাতকতা করলে তাদেরকে দেশ ছাড়াও করতে পারে।
যারা জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে তাদের রক্তের দাগ না শুকাতেই অন্য একটি অপশক্তি লুট ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে শুরু করেছে, তাদেরকে আমরা ঘৃণা করি। এমন কোনো অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
এতে অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির মাওলানা ড. কেরামত আলী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, জামায়াতের রাজশাহী মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, শহীদ আলী রায়হানের বাবা মোসলেরম উদ্দিন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শেষে শহীদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মঙ্গলপুর গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানা গেছে, গত ৫ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর আলুপট্টি এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের অফিস সংলগ্ন স্বচ্ছ টাওয়ারের কাছে পৌছলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হন আলী রায়হান। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন দিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মারা যান তিনি।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ’র ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে অপারেশন করা হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। অবস্থার আরো অবনতি হলে বুধবার থেকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান তিনি।


















