মঙ্গলবার , ২৫ মার্চ ২০২৫ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

শেষ মুহূর্তে রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

প্রতিবেদক
editor
মার্চ ২৫, ২০২৫ ১০:৩০ অপরাহ্ণ

জিল্লুর রহমান জয় : শেষ মুহূর্তে এসে রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে। যার কারণে কেনাকাটায় দম ফেলানোর সময় নেই ক্রেতাদের। সকাাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। 

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাজশাহী মহানগরীর সব ধরনের দোকানপাঠে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যাচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সামনে যে কটাদিন আছে ক্রেতা সমাগম আরো বেশি হবে। তবে এবার শুরুতে থেকেই সব ধরনের পোশাকের দাম একটু বেশি। যার কারণে ঈদের বাজেটের টাকায় কেনাকাটা হচ্ছে না। শুধু পোশাকেরই নয়, এবার প্রসাধনী সামগ্রীরও দাম বেশি। তারপরও ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিযাত মার্কোটগুলোতে চলছে প্রসাধনী কেনাকাটার ধুম।

আজ মঙ্গলবার ২৫ মার্চ নগরীর সাহেববাজার, আরডিএ মার্কেট, নিউমার্কেট, হকার্স মার্কেট, গণকপাড়া, থিম ওমর প্লাজাসহ বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই ক্রেতার ভীড়। বিশেষ করে সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেটে ভীড় সবচেয়ে বেশি। এই বাজারে মেয়েদের শাড়ি, থ্রি-পিস, বোরকা, জুতা-স্যান্ডেল, অলঙ্কার, কসমেটিকস সবকিছুই সহজলভ্য হওয়ায় নারী ক্রেতার উপস্থিতি বেশি। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতেও চলছে কেনাকাটা। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছেন মানুষ। সাধারণ আয়ের মানুষ ছুটছেন ফুটপাতে। আর একটু স্বাবলম্বীরা ছুটছেন অভিযান দোকানগুলোতে। তবে অভিযাত দোকানের চেয়ে এবার ক্রেতা সমাগম বেশি হচ্ছে নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

শুধু রাজশাহী মহানগরীতেই নয়, রাজশাহীর উপজেলার হাটবাজারগুলোতেও কেনাকাটা জমে উঠেছে। উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম হচ্ছে চোখে পড়ার মত। রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, তানোর, পুঠিয়া উপজেলার হাটবাজারে জমে উঠেছে কেনাকাটা। উপজেলার এসব বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন।

শেষ সময়ে এসে লোকজন পরিবারের জন্য নিজেদের সাধ্যমত কেনাকাটা করছেন। তবে গ্রামের অনেক লোকজন উপজেলায় কেনাকাটা না করে চলে আসছেন শহরে। শহর থেকে কেনাকাটা করে রাতে ফিরছেন বাড়িতে। গ্রাম থেকে লোকজন শহরে আসার কারণে বিকেলের পর থেকে ক্রেতাসমাগমে মুখোর হয়ে উঠছে নগরীর প্রতিটি দোকানপাঠ।

দেখা গেছে, নগরীর গণকপাড়ার ফুটপাতে দেদার্সে চলছে কেনাকাটা। নগরীর হড়গ্রাম নিউমার্কেট ও ফুটপাত থেকে ঈদের কেনাকাটা সারছেন সাধারণ আয়ের মানুষ। মধ্যবিত্তরা যাচ্ছেন নিউমার্কেট, আরডিএ মার্কেট ও থিম ওমর প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিংমল ও শোরুমে। আর সামর্থ্যবানরা যাচ্ছেন রাজশাহীর বিভিন্ন সিল্কের শোরুমগুলোতে। ফুটপাত ও শপিংমলগুলোতে ১০ রোজার পর থেকে ঈদের কেনাকাটা শুরু হলেও সিল্কের শোরুমগুলো জমেছে রোজার শুরু থেকেই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিরা স্বপরিবারে কেনাকাটায় রোজার শুরু থেকেই সিল্কের শোরুমগুলো জমিয়ে তুলেছেন।

এবার দাম বেশি হলেও দোকানপাট ও শপিংমলগুলো সাজানো হয়েছে বাহারি পোশাকে। কিন্তু কেনাকাটায় গিয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এবার সব ধরনের পোশাকেরই দাম বেশি। তাই বাজেটের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তারপরও কেনাকাটা সারতে হচ্ছে।

সাহেব বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লোকমান হোসেন জানান, নিজের ও পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু এবার প্রতিটি পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ। গতবারের দেড় হাজার টাকার শাড়ি এবার আড়াই হাজার। সবকিছুর অস্বাভাবিক দাম। আমাদের কষ্ট। হেতেমখাঁ এলাকার সুলাইমান হোসেন জানান, দুটি ঈদের মধ্যে রমজানের ঈদে পরিবারের জন্য কেনাকাটা না করলে হয় না। কিন্তু কেনাকাটা করতে এসে যে বাজেট করে এনেছি সেটা দিয়ে হচ্ছে না। সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।

কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের অয় তো বাড়েনি। সিল্ক শো রুমে কেনাকাটা করতে যাওয়া আব্দুল আওয়াল নামে এক ক্রেতা জানান, এবার সিল্কের দোকানে বা শো রুমে যাওয়াই মুশকিল। এবারই প্রথম দেখলাম শুরু থেকে সিল্কের শো রুমে কেনাকাটা হচ্ছে। কিন্তু এবার প্রতিটি পোশাকের দাম অনেক বেশি। ইচ্ছে থাকলেও বাজেটের অভাবে পছন্দের পোশাকটি কিনতে পারছেন না ক্রেতরা। যারা একান্তই ইচ্ছে করে কেনাকাটা করতে এসেছেন তারাই চাহিদার অর্ধেক কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছেন বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, নিত্যনতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, জিন্স ও টি-শার্টের দোকানেও এবার ভীড় অনেক বেশি। নগরীর আরডিএ মার্কেট, হকার্স মার্কেট, বাটার মোড়ের রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে এবার কেনাকাটা হচ্ছে অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

এছাড়াও ঈদের আরো বেশ কয়েকদিন রয়েছে। এই সময়ে কেনাকাটা আরো ভাল হবে বলে আসা করছেন বিক্রেতারা। আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী সওদাগর জানান, রোজার প্রথম থেকে তেমন কেনাকাটা হয়নি। ১৫ রমজানের পর থেকে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। বর্তমান কেনাকাটার পরিমান অনেক বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। সামনের দিনগুলোতে আরো ভাল কিছু হবে বলে আসা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - অন্যান্য