সোমবার , ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা পরিষদে প্রকৌশলী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ

প্রতিবেদক
editor
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সারা দেশে জেলা পরিষদে কর্মরত চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা সার্ভেয়ারদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-বঞ্চনা ও বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা পরিষদসমূহে প্রকৌশলী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি কার্যক্রম কার্যকর না করে দ্রুত সরাসরি নিয়োগ সম্পন্ন করার তৎপরতা চালানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই গ্রেডেশন তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ১২ বছর চাকরি পূর্ণ করা সার্ভেয়ারদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত তাদের পদোন্নতির বিষয়ে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। বরং পদোন্নতির পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আদালতের নির্দেশনা ও স্থগিতাদেশ: এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২৩ জন সার্ভেয়ার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ২০৪৩৩/২০২৫ দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুনানি শেষে আদালত রিটকারীদের পদোন্নতির নির্দেশ দেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে ২৩টি পদ শূন্য রাখার নির্দেশনাও দেন আদালত। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়।

পরবর্তীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১২৪২/২০২৬–এ চলতি বছরের (২০২৬) ২৭ জানুয়ারি আদালত নিয়োগ কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পাশাপাশি পদোন্নতি যোগ্যদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার নির্দেশসহ তিন সপ্তাহের রুল জারি করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন: রিটকারীদের অভিযোগ, আদালতের এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই নিয়োগ কার্যক্রম অস্বাভাবিক দ্রুততায় পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে একদিনেই লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ ও একই দিনে ফল প্রকাশ করা হয়। এমনকি প্রায় ১৪ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র একদিনে মূল্যায়নের দাবি করা হয়েছে।

প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক খাতা একদিনে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। এতে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
সিনিয়রিটি ও বৈষম্যের আশঙ্কা: সার্ভেয়ারদের আশঙ্কা, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়ে পরবর্তীতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার যে প্রশাসনিক রীতি রয়েছে, তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। পদোন্নতি নিশ্চিত না করে আগে সরাসরি নিয়োগ দিলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা সিনিয়রিটি তালিকায় এগিয়ে যেতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন কর্মরত সার্ভেয়াররা ভবিষ্যতেও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন বলে তারা মনে করছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মত: আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে গেলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রশাসনের জবাবদিহি ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তাদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে মোবাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (জেলা পরিষদ) খোন্দকার ফরহাদ আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ - অন্যান্য