জিল্লুর রহমান জয় : রাজশাহীর বাগমারায় মাঠে মাঠে দেখা মিলছে হলুদের সমাহার। দিগান্ত জুড়ে সারি সারি হলুদ সরিষা ক্ষেত দেখে মন প্রাণ ভরে উঠেছে। কম খরচে বেশী লাভের আশায় এবার সরিষার চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি আর উপকরণ খরচ কমাতে এলাকায় বিগত বছরের চেয়ে অধিক জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূুলে থাকায় উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
জানা যায়, উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা এলাকায় চলতি মওসুমে ১৬ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ এলাকার লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে কৃষকরা ব্যাপক হারে পাট, ধান, আলুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে। আলু চাষে অতিরিক্ত বীজের দামে কৃষককের উৎপাদিত ফসলে তেমন লাভ মিলছে না। অনেকে উৎপাদনে মুলধন হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। মহাজন ও ব্যাংক ঋণের টাকায় ফসল করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ভিটে মাটি বিক্রি করে নিঃশ্ব হতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে অল্প খরচে অধিক লাভজনক সরিষা চাষে কৃষক ঝুঁকেছেন।
উপজেলার বালানগর গ্রামের কৃষক, রফিকুল ইসলাম, চয়েন উদ্দিন, আনিছুর রহমানসহ অনেকে জানান, বহুদিন ধরে তারা কৃষি কাজ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে কৃষি উপকরণ ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে বর্তমানে লোকশান গুণতে হচ্ছে। অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে কম খরচের ফসল সরিষা চাষ করেছেন।
সরজমিনে বাগমারার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর এলাকার দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন সরিষার ফুলের হাতছানি। এ বছর বারি ১৪, ১৫. ১৭, ও ১৮ জাতের সরিষার আবাদ কৃষককের নজর কেড়েছে। এ জাতের সরিষা আগাম ও বেশী ফলনশীল বলে চাষীরা চাষ করেন। আগে এলাকায় বারি ৭ ও দেশীয় আয় জাতের সরিষা চাষ করে ফলন কম পেত কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে ফলন জাতের সরিষা চাষে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মওসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় অক্টোবরের মাঝামাঝি দিকেই কৃষকেরা জমিতে সরিষা বীজ বপন করেছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তহিদুর রহমান বলেন, জমিতে সরিষার গাছ পরিপুর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঠে মাঠে হলুদ বর্ণের সরিষা মাঠ ভরে গেছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি রবি মওসুমে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে গেছে। কৃষকেরা কম খরচে স্বল্প সময়ের সরিষার আবাদ চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় লক্ষ্যমাত্র বিগত বছররে তুলনায় বেড়েছে হয়েছে। এবছরে অন্য বড় ধরনের দুর্যোগ বালাই না হলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন।


















