শুক্রবার , ২৮ জুন ২০২৪ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

বাঘায় আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এবার আদালতে মামলা

প্রতিবেদক
editor
জুন ২৮, ২০২৪ ৯:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার আদালতে মামলা করা হয়েছে। আবুল কালাম (৩৫) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ২২ জুন ঘটনার দিনই তাদের পক্ষ থেকে বাঘা থানায় মামলা করতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের মামলা নেননি। ওসি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে ঘটনার পাঁচদিন পর আদালতে মামলা দায়ের করা হলো।
তবে জানতে চাইলে বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের বিচারক তাদের মামলার আবেদনটি গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য বাঘা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামি হিসেবে বাঘা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমানসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে।
এর আগে গত ২২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঘা উপজেলা সদরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী ও পথচারী আহত হন। তাদের মধ্যে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের অবস্থা ছিল আশংকাজনক। তাকে ওইদিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এরপর ২৬ জুন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা আ’লীগের বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে যারা রয়েছেন তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় এমপি শাহরিয়ার আলমের অনুসারী। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন আ’লীগের একটি অংশ। আর আ’লীগের আরেকটি অংশের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বাঘা পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাছ আলী এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলুর নেতৃত্বে। নিহত আ’লীগ নেতা বাবুল ছিলেন স্থানীয় এমপি শাহরিয়ার আলমের অনুসারী।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসলেও সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত হয়- বাঘা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নামে কিছু লোক জমির দলিল রেজিস্ট্রির সময় দিনের পর দিন বাড়তি টাকা আদায় করে আসছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ এই সমিতিকে সমর্থন দিয়ে থাকে। আর অপর একটি অংশ দলিল লেখক সমিতির এই দৌরাত্বের বিপক্ষে। দলিল লেখক সমিতিকে সমর্থন দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে ২২ জুন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
সূত্র বলছে, ১৯ জুন দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শামিউল আলম নয়ন দায়িত্ব নিতে যান। সেদিন সাধারণ দলিল লেখকেরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এরই প্রতিবাদে পরদিন ২০ জুন দলিল লেখকদের একাংশ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এই মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘা পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাছ আলী এবং পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম। কর্মসূচিতে তারা দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করার দাবি জানান।
পরে ২২ জুন দলিল লেখক সমিতির দৌরাত্ন বন্ধের দাবিতে বাঘা উপজেলার সচেতন নাগরিকের ব্যানারে উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু, পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুলের সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। আর একই দিন একই সময়ে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি আহবান করে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ। পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে আগের দিনই উত্তেজনা দেখা দেয়। ২২ জুন কর্মসূচির জন্য দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা উপজেলা চত্বরে জড়ো হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের ৫০ জন নেতা-কর্মী ও পথচারী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার (২৬ জুন) বাবুল মারা গেলেন।
এদিকে ২২ জুনের সংঘর্ষের ঘটনায় সেদিন দিবাগত রাতেই থানায় মামলা করেন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি পিন্টু। এ মামলায় বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত আসামিদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মেরাজুল ইসলামসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এবার আদালতে দায়ের হলো নতুন মামলা।

সর্বশেষ - অন্যান্য