বৃহস্পতিবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

শান্তিপূর্ণভাবে রাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ

প্রতিবেদক
editor
অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূণ’ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগণনা শুরু হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়।নির্বাচনে মোট ৭২ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমান।

এদিকে বিকেল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শুরুর কথা ছিল। পরে ভোট গণনার বিষয়ে অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরুর কথা থাকলেও তা সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা জানান।’

অন্যদিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে যারা ভোট দেননি, তাদের লাইনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এরপর কেন্দ্রের গেট বন্ধ করে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।

ভোট গণনা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন থেকে ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ।

তিনি বলেন, নয়টি ভবনে ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স নেওয়া হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। ভোট গণনার সুবিধার্থে ১০০টি করে ব্যালট দিয়ে পৃথক বান্ডেল করা হবে। এ বান্ডেলের ভোট গোনা হবে ওএমআর মেশিনে, যা পর্যবেক্ষণ করবে বিশেষজ্ঞ প্যানেল। সব মিলিয়ে তিন ধাপে চূড়ান্ত ফল তৈরি হবে। একটি হলের ফল তৈরি শেষে আরেকটির গণনা শুরু হবে। তাতে ২৮৩টি পদের ফল জানাতে ১২ থেকে ১৭ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ আরো জানান, ভোট গণনা সম্পন্ন হবে ছয়টি অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি ফল প্রদর্শন করা হবে। সবশেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এর আগে সকাল সোয়া ৭টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণ শুরু হয়। এসময় প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হালনাগাদ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ওএমআরযুক্ত ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালি-সহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে। রাকসুর কেন্দ্রীয় ২৩টি পদে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে রয়েছে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী ও ৬০ দশমিক ৯০ পুরুষ।এবার রাকসুতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়।

রাকসু নির্বাচনে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। ভোট গ্রহণের প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়।

ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেল’। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলা হয়।

এতে ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, ‘শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনে প্রায় এক ঘণ্টা ভোট কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। পরে ভেতরে গিয়ে আমরা ১০০ ব্যালট পেপার স্বাক্ষর করা অবস্থায় দেখতে পাই।’

আবীর বলেন, ‘সকালে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ছিল। কিন্তু পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। আশপাশে শিবিরের প্যানেলের জার্সি পরে অনেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।’

রাকসু নির্বাচনে ৮ অনিয়মের অভিযোগ ছাত্রশিবির সমথি’ত প্যানেলের : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে আটটি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ভোট গ্রহণ চলাকালে বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে প্যানেলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

অভিযোগগুলো পড়ে শোনান শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় ভোটারদের হাতে দেওয়া অমোচনীয় কালি মুছে যাচ্ছে; নির্বাচন কমিশন অনুমতি দিলেও সিরাজী ভবন, রবীন্দ্র ভবন ও জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের চিরকুট নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ফাহিম অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদল ও আধিপত্যবিরোধী প্যানেলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। খালেদা জিয়া ও হবিবুর রহমান হলের পাশে ছাত্রদল বুথ নির্মাণ করেছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে না। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এখন বহিরাগত প্রবেশ করছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়াকড়ি শিথিল করেছে।

আর নীতিমালা লঙ্ঘন করে বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে দেয়াললিখন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ফাহিম বলেন, ‘ছাত্রশিবির সমথি’ত প্যানেল ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

জামায়াত নাকি অস্ত্রের রাজনীতি করছে- এমনটি বলা হচ্ছে। ছাত্রদলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাম্পাসে বসে থেকে এসব গুজব ছড়াচ্ছেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের সভাপতি নিজেও ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন।

জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, এ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন নেই। তিনি জানান, যতক্ষণ নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ ছিল, ততক্ষণ তারা নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এখন এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। কমিশন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা করেন।

ফাহিম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের ওপর আস্থা রেখে এই নির্বাচনে থাকতে চাই। কিন্তু থাকার জন্যই যে যেমন খুশি তেমন হবে, তা আমরা মেনে নেব না।’

প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে কি না, সেটি এখন বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলবো, সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা করার জন্য।’

সর্বশেষ - অন্যান্য