নিজস্ব প্রতিবেদক : নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি’র (নেসকো) নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের চাকরি চুক্তির মেয়াদ তৃতীয় বারের মতো নবায়নের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তার “পারফর্মেন্স সন্তোষজনক বিবেচনায়” তার চাকরির মেয়াদ নবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে নেসকো দফতরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এনিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের প্রথম নিয়োগ চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। একই পদে দ্বিতীয় চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে চলতি চাকরির ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে আবার তৃতীয় দফায় তার চাকরি চুক্তি নবায়ন করা হয়।
সে অনুযায়ী তৃতীয় চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের (২০২৫ সাল) ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।তার আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাস অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল পযর্ন্ত আবারো তার চাকরি নবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য গত ১ জুন আবেদনপত্র দাখিল করেন সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো নেসকোর ব্যবস্হাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অঞ্জনা খান মজলিশ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের দফায় দফায় চাকরি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এতে আরো বলা হয়, ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নেসকো পরিচালনা পষ’দের ১৪৫ তম সভার সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের চলমান নিয়োগ চুক্তির মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হবে।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১ জুন তার চলতি চাকরির ধারাবাহিকতাসহ মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্হাপনা পরিচালক বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করেন। পরে বিষয় টি গত ২৪ আগস্ট নেসকো পরিচালনা পষ’দের ২১৩ তম সভায় উপস্থাপন করা হয়। এতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের “পারফর্মেন্স সন্তোষজনক বিবেচনায়” তার চাকরি চুক্তি আগামী ২২ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাস অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল পযর্ন্ত নবায়নের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে তার চাকরি চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের পরামর্শ ও সদয় নিদের্শনার জন্য পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেসকোর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বিগত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্টও ছিলেন তিনি। ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিক বার তার চাকরি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে আবারো তার চাকরি চুক্তি নবায়নে সুপারিশ করা হয়েছে।
তারা আরো বলেন, “পারফর্মেন্স সন্তোষজনক বিবেচনায়” তার চাকরি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তা নবায়নের সুপারিশ করা হলেও তিনি গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতোপূর্বে নেসকোতে ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে নানা কারণে নেসকো দফতরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এছাড়া চাকরি চুক্তির মেয়াদ নবায়নের বিষয়েও কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন নেসকোর উধ্ব’তন এই কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন) আবু হায়াত মো: রহমতুল্লাহ বলেন, আমি ঢাকায় আছি। অল্প কিছু দিন হলো নেসকোতে যোগ দিয়েছি। রাজশাহী ফিরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।


















