নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন একমাত্র নারী প্রার্থী রাবেয়া সুলতানা মিতু। তিনি পৌরসভাটির বরখাস্তকৃত মেয়র আব্বাস আলীর সহধর্মিণী। ভোট গণনা শেষে রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী- কাটাখালী পৌর নির্বাচনে রাবেয়া সুলতানা মিতু হ্যাঙ্গার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু শামা নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ ভোট।
এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাটাখালী পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কাটাখালী পৌরসভার এই উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র রাবেয়া সুলতানা মিতুসহ সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ৯টি। মোট ২৩ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
রাবেয়ার স্বামী আব্বাস আলী এই পৌরসভার সাবেক মেয়র। পর পর দুইবার আব্বাস আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের নভেম্বরে মেয়র থাকাকালে পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন আহ্বায়ক আব্বাস আলীর একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তিনি দলীয় পদ হারান। রাজধানী ঢাকায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে প্রায় এক বছর কারাভোগ করেন। আর মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে তাকে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র পদের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আইনি বাধার কারণে আব্বাস আলী এই উপনির্বাচনে অংশ নিতে না পারেননি। তাই প্রার্থী করা হয় তার সহধর্মিণী রাবেয়া সুলতানা মিতুকে। আর মিতু জীবনে এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশ নিলেন এবং নির্বাচিত হলেন। আর স্থানীয়ভাবে তার স্বামী আব্বাস আলী বেশ জনপ্রিয় বলে মনে করা হয়। তাই স্বামীর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জীবনের প্রথম নির্বাচনেই অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন রাবেয়া সুলতানা মিতু।


















