স্পোর্টস ডেস্ক : অবশেষে, আইপিএলের শিরোপা জিতলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কত অপেক্ষা, না পাওয়ার বেদনা, কতশত ব্যর্থতা আর হাহাকার শেষে এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগের তিনবার ফাইনালে উঠেও ব্যর্থ আরসিবি এবার পেয়েছে শিরোপার দেখা।
ফাইনাল ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মত বহু আরাধ্য আইপিএলের শিরোপা জিতলো আরসিবি। ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো বিরাট কোহলিরও। আইপিএলের প্রথম আসর থেকে বেঙ্গালুরুতেই খেলে যাওয়া কোহলি আগে কখনও জিতলে পারেননি আইপিএলের ট্রফি, এবার পারলেন।
ক্রিকেটের সব ব্রেকিং নিউজ পেতে যোগ দিন হোয়াটসঅ্যাপে
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে আরসিবিকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাঞ্জাব। আরসিবির হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন ফিল সল্ট এবং বিরাট কোহলি। শুরুতে দারুণ কিছু শটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তুলতে থাকেন সল্ট। তবে সল্টের তাণ্ডব থেমেছে দ্রুতই। দলের ১৮ রানের মাথাতে ৯ বলে ১৬ রান করে বিদায় নেন সল্ট।
এরপর কোহলির সাথে যোগ দেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। পাওয়ারপ্লেটা কাজে লাগিয়েছেন কোহলি এবং আগারওয়াল। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান তোলে আরসিবি। পাওয়ারপ্লে শেষেই থেমেছেন আগারওয়াল। ১৮ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর চারে নেমে ঝড় তোলেন অধিনায়ক রজত পতিদার। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন কোহলি। কিছুটা ধীরেসুস্থে এগিয়েছেন বিরাট কোহলি। পতিদার ১৬ বলে ২৬ রান করে আউট হয়েছেন দলের ৯৬ রানের মাথাতে। কোহলি ছিলেন ফিফটির পথেই। তবে থেমেছেন ফিফটির আগে। ৩৫ বলে ৪৩ রান করে দলের দলীয় ১৩১ রানের মাথায় থেমেছেন কোহলি।
শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়েছেন জিতেশ শর্মা। সাথে যোগ দেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ১০ বলে ২৪ রানের ক্যামিও খেলেন জিতেশ। লিভিংস্টোন ১৫ বলে করেছেন ২৫ রান। শেষ দিকে ৯ বলে ১৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন রোমারিও শেফার্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পাঞ্জাব কিংস।
পাঞ্জাবের হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন কাইল জেমিসন এবং আর্শদ্বীপ সিং। ১টি করে উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, বিজয়কুমার বৈশাখ এবং যুজবেন্দ্র চাহাল।
জবাব দিতে নেমে প্রিয়ানশ আরিয়া এবং প্রভসিমরান সিংয়ের ওপেনিং জুটির সুবাদে ভালো শুরু পায় পাঞ্জাব কিংস। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৪৩ রান। ১৯ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন আরিয়া। পাওয়ারপ্লেটা ভালোই কাজে লাগিয়েছে পাঞ্জাব। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৫২ রান।
তিনে নামা জশ ইংলিশ ছিলেন মারমুখি। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন ইংলিশ। প্রভসিমরানের ইনিংস লম্বা হয়নি। ২২ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন পাঞ্জাবের ওপেনার। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ২ বলে ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন আইয়ার।
দারুণ খেলতে থাকা ইংলিশ ছিলেন ফিফটির পথে। তবে ফিফটি থেকে সামান্য দূরে থাকা অবস্থায় আউট হয়েছেন তিনি। ২৩ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন জশ ইংলিশ। তাকে ফিরিয়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। সেখানেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে শুরু করে।
এরপর প্রতিরোধ গড়েছেন নেহাল ভাদেরা এবং শশাঙ্ক সিং। নেহাল এগোচ্ছিলেন ধীরেসুস্থে। শশাঙ্ক চালাচ্ছিলেন তাণ্ডব। তবে দুজনের কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ বলে ১৫ রান করে থামেন নেহাল। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসা মার্কাস স্টয়নিস আউট হয়েছেন দলীয় ১৪২ রানের মাথাতে, করেন ২ বলে ৬ রান। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২ বলে ১ রান করে আউট হলে প্রচন্ড চাপে পড়ে যায় পাঞ্জাব কিংস।
শেষ মেশ ৬ রানের জয়ে আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন হয় আরসিবি।


















