মঙ্গলবার , ২০ মে ২০২৫ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

রাবিতে ডীন ও সিন্ডিকেটে এখনো বহাল তবিয়তে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা

প্রতিবেদক
editor
মে ২০, ২০২৫ ৪:২৯ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক : গত বছরের ৫ আগস্ট দুই সহস্রাধিক ছাত্র জনতার জীবনের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে৷ তবে পতনের ১০ মাস পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের সিন্ডিকেট ও ডীন পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থাও নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও তীব্র অসন্তোষ এবং প্রশাসনের সক্ষমতার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের দাবি এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জুলাই বিপ্লব চলাকালীন সময়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ৩১ জুলাই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার জন্য উস্কানীমূলক বক্তব্য দেন। তবে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে।

অন্যদিকে ডীন পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক, আইন অনুষদে আইন বিভাগের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদে গণিত বিভাগের ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস. এম. এক্র্যাম উল্ল্যাহ, প্রকৌশল অনুষদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক, ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ. এইচ. এম. সেলিম রেজা।

এছাড়াও সিন্ডিকেট সদস্য হিসাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে রসায়ন বিভাগের হাসান মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক পদে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের খন্দকার খালিদ বিন ফেরদৌস, সহকারী অধ্যাপক পদে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের রাকিবুল ইসলাম, প্রভাষক পদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. রিজু খন্দকার বিনা।

এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে জানিয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত ফ্যাসিস্টের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা হয়ে ওঠেছিল লেজুড়বৃত্তিক দানবীয় ফ্যাসিস্ট। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নই ছিল তাদের প্রধান কাজ। বিরোধী দল-মত দমনে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উস্কানি কেঁড়ে নিয়েছে হাজার হাজার প্রাণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে, আন্দোলনকারীদের কঠোর হাতে দমন করতে সরকারকে উস্কানি দিয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয়, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা তাদেরকে দুধকলা দিয়ে পুষতে দেখছি। ডীন, সিন্ডিকেটসহ সবজায়গায় এখনো ছড়ি ঘুরাচ্ছে তারা। এটা আমাদের বিপ্লবের সাথে প্রতারণা, শহীদদের সাথে প্রহসন।

আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, অতিদ্রুত এসব ডীন, সিন্ডিকেট মেম্বারদের অপসারণ করতে হবে। ৩১ জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। নতুবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো।

এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, জুলাই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন আমরা কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। সব জায়গায় স্বৈরাচার ও তার দোসরদের আগলে রাখতে দেখছি। বিপ্লবের ১০ মাস পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, ডীন পদ থেকে আওয়ামী দোসরদের সরানো হয়নি, তাদের শাস্তি হয়নি।

প্রশাসনকে আবারও স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, অতিদ্রুত তাদেরকে অপসারণ করুন, ৩১ জুলাই যারা আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্যারিস রোডে মানববন্ধন করেছিল, আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করতে উস্কানি দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন৷ নতুবা তাদের নামে আমি বাদী হয়ে মামলা করবো, আর শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের প্রতি আপনাদের এ দরদের কারণ কি তা রাজপথে এসে জবাব নেব।

প্রশাসন ব্যর্থ দাবি করে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বর্তমান রাবি প্রশাসনের শীর্ষ চেয়ারগুলোতে যাদের বসানো হয়েছে তারা চেয়ারে বসেই ভুলে গেছেন সে চেয়ারগুলো আমাদের রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত। চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট চেতনাকে তারা সত্যিকার অর্থে লালন করেন কিনা সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। যদি তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতো তবে অবশ্যই জুলাই আন্দোলন চলাকালীন হলুদ প্যানেলের যে সকল শিক্ষক সরাসরি আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম পদক্ষেপ নিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা অবগত, সে সকল আওয়ামী সমর্থক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম পদক্ষেপ তো দূরে থাক তাদের সাথে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের আঁতাত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিরা স্পষ্টত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে গাদ্দারি করে চলেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা নেতৃত্বের একটা অংশ বিভিন্ন অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। রাবি ছাত্রদল বেশ কয়েকবার সমাবেশের মধ্য থেকে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে এদের বিচার চাইলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে সত্যানুসন্ধ্যানী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিগত প্রশাসনের আমলের অপরাধ-দুর্নীতিসহ সকল অপকর্মের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। ২৯ মে পর্যন্ত তথ্য নেওয়া হবে এরপর আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ - অন্যান্য