শনিবার , ৮ মার্চ ২০২৫ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

আ.লীগ নেতার গ্রেফতার নিয়ে বিরোধ : রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

প্রতিবেদক
editor
মার্চ ৮, ২০২৫ ৭:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করানোর চেষ্টার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তিনটি মোটরসাইকেল। সংঘর্ষকালে পুলিশের নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) একজন সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন—নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকার মহিলা দলের নেত্রী লাভলী খাতুন, তার আড়াই বছর বয়সী শিশুকন্যা লামিয়া, সিটিএসবি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন ও রেলওয়ের কর্মচারী রনি। সিটিএসবির সদস্য তোফাজ্জল ও পথচারী রনি ইটের আঘাতে আহত হন। মহিলা দলের নেত্রী লাভলীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এতে শিশুকন্যাসহ তিনি আহত হন।

আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়েকে নিয়ে বাসায় চলে যান মহানগর যুব মহিলা দলের সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক লাভলী।
সংঘর্ষকালে দড়িখড়বোনা এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল একজন সাংবাদিকের বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিলা দল নেত্রী লাভলীসহ তার অনুসারীরা নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতল ভবন ঘেরাও করেন। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ থাকেন নগরীর বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বাবু ওরফে ব্যাটারি বাবু। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাটারি বাবু ও তার ভাই সাব্বির বাবুর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

লাভলী দাবি করেন, তারা ওই ভবনের ভেতরে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ বাবুকে ঢুকতে দেখেছেন। ভবনটি তারা ঘিরে রাখলে যৌথ বাহিনী অভিযানে আসে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে ওই ভবনে মোস্তাকের কোনো হদিস মিলেনি। যদিও ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর খাতায় প্রবেশকারী হিসেবে মোস্তাকের নাম দেখা গেছে।

এ ছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও মোস্তাককে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ভবনে ঢুকতে দেখা গেছে। তবে মোস্তাককে না পেলেও পরে সেখান থেকে মোস্তাকের ভাই সাব্বির বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, মোস্তাক আহমেদ বাবুকে না পাওয়ার জন্য মহিলা দল নেত্রী লাভলী সাবেক যুবদল নেতা মারুফ হোসেন জীবনকে দায়ী করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হন মারুফ। পরে মারুফের লোকজন সন্ধ্যায় দড়িখড়বোনা এলাকায় লাভলীর বাড়িতে হামলা করেন। তারা বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে চলে গেলে লাভলীর অনুসারীরা দড়িখড়বোনা রেল লাইনের পাশে মারুফের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করেন।

এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে দড়িখড়বোনা, উপশহর মোড়, রেলগেট, সপুরা ও শালবাগান এলাকায়। এসময় উভয় পক্ষের লোকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে এবং কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন যুব মহিলা দল নেত্রী লাভলী। এসময় তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগের অত্যাচারে তারা বাড়িতে থাকতে পারেননি। আর এখন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ বাবুকে তার ফ্ল্যাটে উঠতে দেখে ভবন ঘেরাও করা এবং তার ভাই সাব্বিরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় বিএনপির লোকজনই তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সাব্বিরকে তুলে দেওয়ার পর মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মারুফ হোসেন জীবন তাকে প্রস্তাব দেন যে, তাকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে তিনি যেন এটা নিয়ে কোনো ঝামেলা না করেন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি । শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাসায় একই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু সেটি নাকচ করে দেওয়ার পর তার বাসায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন লাভলী।

তবে এ ব্যাপারে মারুফ হোসেন জীবনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইলে কল করা হলে তিনি ধরেননি। তার ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে সনি নামের এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাভলীর ভাই তাঁতি লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাকে ধরার জন্য ছাত্রদলের ছেলেরা গিয়েছিল। তারপর মারামারির ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ বাবুকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি । খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত বলে জানান তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

সর্বশেষ - অন্যান্য

আপনার জন্য নির্বাচিত