নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী শিমুলের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন সহপাঠীরা। শনিবার দুপুরের দিকে রাজশাহী কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন তারা। এছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, শিমুল হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আয় প্রক্টর দেখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনিরা কেন বাইরে’?, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ’প্রক্টরের দুই গালে, ‘জুতা মারো তালে তালে’, ‘তুমি কে, ‘আমি কে, বহিরাগত, বহিরাগত’, ’বিচার চাই, বিচার চাই, শিমুল হত্যার বিচার চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা সরে গেলে যানবাহন পুনরায় চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হন; তা মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু শিমুলের পরিবারকেই নয়, পুরো ছাত্রসমাজকে শোকাহত করেছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই। পাশাপাশি এ মৃত্যুর পেছনের মূল ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
কর্মসূচিতে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী- সামিউল, রুহুল আমিন ও রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিনোদপুর গেটসংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন ও স্থানীয়রা। সড়কে বিক্ষোভ করে তারা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে থেকে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী শিমুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিমুল ওই রাতে তার বান্ধবীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রক্টরের গাড়ি দেখে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে শিমুল আহত হন। আর পরিবারের দাবি, শিমুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শিমুলের বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বুধপাড়া এলাকায়। তিনি রাজশাহী কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি করেছে। পুলিশ শিমুলের বান্ধবীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখেছে। এ নিয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি। নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, শিমুলের পরিবার মামলা করতে চায়। সন্ধ্যার পর তারা এজাহার নিয়ে থানায় আসার কথা রয়েছে।


















