শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

আর কোনো শহীদের লাশ উত্তোলন করতে দেয়া হবে না : সারজিস আলম

প্রতিবেদক
editor
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৪ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচারের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন না হলে জুলাই-আগস্টের শহীদদের লাশ কেন কবর থেকে তুলতে হবে? তাই আর কোনো শহীদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের মধ্যে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, শহীদদের হত্যা মামলাগুলোতে বিচারকার্য পর্যন্ত নিয়ে যেতে যারা অসহযোগিতা করবে তারাও হত্যাকারী হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, ‘আপনাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক কী হবে সেটা আপনাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। খুনি হাসিনা এতগুলো মানুষকে খুন করে এই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, যেই খুনি হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে, সেই খুনি হাসিনাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। যদি এই বাংলাদেশের সাথে আপনারা সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিন। খুনি হাসিনার বিচার এই বাংলাদেশের মানুষ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ভুলে গিয়ে যদি ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে, সেটা যদি নাহিদ, আসিফ, সারজিস, হাসনাতও হয়, আপনারা তাদের বিরুদ্ধেও কথা বলবেন। এই বাংলাদেশে আর যেন কোনো ক্ষমতা পিপাসু নরপিশাচের জায়গা না হয়।’

সারজিস আলম বলেন, ‘পরিচয় তার যাই হোক- পুলিশ, বিজিবি, আর্মি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ- এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবো না। তারা যেই পরিচয়েই পরিচিত হোক না কেন, তারা আমাদের কাছে একজন খুনি। তাদের এই খুনের বিচার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, গুলি চালানো পুলিশ সদস্যদের শাস্তির বদলে বদলি করে নতুন করে পোস্টিং তদবির চলছে। মামলা বাণিজ্যের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের বিশ্বাসের সাথে বেঈমানি করলে কাউকেই ছাড়া দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সারজিস আলম আরো বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যা মামলার বিচারের জন্য শহিদদের লাশ কোনোভাবেই উত্তোলন করা যাবে না। হত্যা মামলাগুলোর বিচার সংশ্লিষ্ট সকলকে একটি কথা বলে দিতে চাই, যে ভাইয়ের জীবনের রক্তের ওপরে ওই চেয়ারে আপনারা বসে রয়েছেন, আপনারা চার মাস পর বিচারের নামে তাদের লাশ উত্তোলন করতে পারেন না। এসময় জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানা তিনি।

আড়াই লক্ষ পুলিশ সদস্যের বিশাল পরিবারের ওপর আস্থা রাখতে চাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২৪ এর আন্দোলনে পুরো পুলিশবাহিনীর ভাবমূর্তিতে যে নেতিবাচক ছায়া পড়েছে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যে সহযোগিতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরকে পুনরায় জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যতদিন এ বাংলাদেশ আছে, যতদিন আপনারা আছেন এই ফাউন্ডেশন তার জায়গা থেকে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে। আজকের এই পদক্ষেপ শুধু শুরু। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, আমরা বীর শহীদদের তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে কিছুই হয়তো দিতে পারবো না। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া পরিবারের পাশে থাকব। শহীদ পরিবারের মাঝে সুষ্ঠুভাবে অনুদান বা বৃত্তি বিতরণ এবং শহীদ পরিবারের শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে চেতনা উপহার দিয়েছেন তা ধারণ করে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে নিহত রাজশাহী বিভাগের ৪৬ জন শহীদের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে চেক দেওয়া হয়। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন কর্তৃক এই অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

এতে অন্যদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আলমগীর রহমান, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - অন্যান্য