নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৯ লাখ কিশোরীকে এইচপিভি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সে লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও বিভাগের আটটি জেলায় শুরু হয়েছে এ টিকাদান কার্যক্রম। আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
এদিকে একইদিন রুয়েট অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমি জানি তোমরা মেয়েরা একটু ভয় পাও। তোমরা টিকা নিতে কোনো ভয় পাবে না। এ টিকা বেলজিয়াম থেকে আমদানি করা হয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত। তাই নিরাপদ। তোমরা তোমাদের সহপাঠীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে, যাতে টিকা নিতে কেউ বাদ না পড়ে। এ টিকা অনেক মূল্যবান। এখন যদি টিকা নেওয়া থেকে কেউ বাদ পড়ো, তাহলে পরে এ টিকা নিতে হবে তিনটি ডোজের মাধ্যমে, যার মূল্য প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, মেয়েদের তিন ধরনের ক্যানসার বেশি হয়। জরায়ুমুখ ক্যানসার, জরায়ু ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসার। অন্য ক্যানসারের টিকা আবিষ্কার করা না গেলেও জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। এ ক্যানসারে আক্রান্ত দেশে অনেক মেয়ে মারা যায়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশে এ রোগে মৃত্যুর হার চতুর্থ। এটির প্রধান কারণ হচ্ছে বাল্যবিয়ে।
অল্প বয়সে বিবাহিত নারীদের এ ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। কোভিডের আগে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে ছিল শতকরা ৩১ শতাংশ। কোভিডের পরে সেটা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৪১ ভাগ। এদিকে রাজশাহী স্বাস্থ্য দফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীর জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার জনকে এ টিকা দেওয়া হবে। রাজশাহী মহানগরীর জাতীয় এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ স্কুল পর্যায়ে ২৪ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ১০ কর্মদিবস পর্যন্ত চলমান থাকবে।
মহানগরীর ৩০৬টি স্কুলের ২৩ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থীকে এইচপিভি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুল পর্যায়ে ২৫৩টি কেন্দ্রে ২ জন টিকাদানকারী, ২ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে। আর কমিউনিটি পর্যায়ে ৭ নভেম্বর শুরু হবে এবং পরবর্তী ৮ কর্মদিবসে ৬০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া কার্যক্রম চলমান থাকবে। টিকা পেতে নিবন্ধন করতে হবে িি.িাধীবঢ়র.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে অগ্রণী স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম। অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাসিকের সচিব মোবারক হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর রাজশাহীর উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী, ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডাঃ কামরুজ্জামান, ইপিআই হেড কোয়ার্টার ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহউল হক।


















