রাবি সংবাদদাতা : ৯ দফা দাবিতে আবারো বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরের দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তারা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিনোদপুর বাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় ‘শেইম শেইম, ডিক্টেটর’, ‘শিক্ষার্থীদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘গদি ধরে মারো টান, স্বৈরাচার হবে খান খান’ এসব মুহুর্মুহু স্লোগান ও বিক্ষোভে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক উত্তাল করে তোলেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
কর্মসূচিতে একাত্নতা প্রকাশ করে শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব, আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৮ জুলাই রাবিতে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই হলগুলো শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। তবে অনেকে এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে নগরীর কাজলা, মেহেরচন্ডী ও বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। ঠান্ডা মাথায় মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা শুধু যে আমাদের ব্যথিত করেছে তা নয়, আমরা বিক্ষুব্ধ। আমি ছাত্রছাত্রীদের বলতে চাই, শুধু এখন নয়, সারা জীবন তোমরা সঠিক পথে থাকবে। তোমরা ন্যায়বিচারের পক্ষে আছো, ন্যায়ের পক্ষে আছো। তোমাদের সাহস ও দৃঢ়তা দেখে শিক্ষক হিসেবে আমি গর্ববোধ করছি’।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সজীব বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি করে স্ক্রিপ্টেড বিবৃতি দিয়ে ছাত্রসমাজের দাবিগুলোর প্রতি সরকার চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। আমরা এত দিন চুপ ছিলাম, এখন আর নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’


















