নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের আগ্রাসী নীতি এবং ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে পদ্মাসহ দেশের বিভিন্ন নদী আজ সংকটে পড়েছে। খরা মৌসুমে রাজশাহীর পদ্মা নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ে, নদীগুলো শুকিয়ে চরে পরিণত হয়। এতে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। পানি সংকটের কারণে জনগণ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষত দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে।
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা কমিটি ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, রাজশাহীর পদ্মা নদীর দীর্ঘ অংশে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও অব্যাহত রয়েছে, অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসন এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে পদ্মা নদীর প্রায় ১৭ মিটার এলাকা বাঁধ দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
বক্তারা সতর্ক করেন, যদি এভাবে নদী দখল ও দুষণ চলতে থাকে তবে রাজশাহী শহর একদিন দখলদারদের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
বক্তারা আরো বলেন, নদী শুধু পানি বহনকারী নয়, বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নদী রক্ষা মানেই জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা করা। তাই প্রশাসন ও সরকারের প্রতি তারা আহ্বান জানান অবিলম্বে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নদী ও জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এতে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা সভাপতি মাহাবুব হোসেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বাপার সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম , গ্রীন ভয়েস রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।


















