সোমবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

রাজশাহীতে জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের দাবিতে ঠিকাদারদের মানববন্ধন

প্রতিবেদক
editor
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঠিকাদারেরা। তাকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ উল্লেখ করে তার শাস্তিও দাবি করেছেন তারা।

রাজশাহী ঠিকাদার সমিতির ব্যানারে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ঘণ্টাব্যাপী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করা ঠিকাদারেরা।

এর আগে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি জনস্বাস্থ্য কার্যালয়কে জিম্মি করে রেখেছেন। গোপনে দরপত্রের রেট ফাঁস করে এখনো আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন তিনি। ঠিকাদারদের বিল আটকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন।

অফিস সময়কে তোয়াক্কা করেন না। রাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার বাসভবনে ডেকে নেন। সেখানে গভীর রাত অবধি কাজ করতে বাধ্য করেন। আর দিনে তিনি ঘুমান। অফিসে এলে পোষা কুকুর নিয়ে ঢোকেন। সেই কুকুরের ভয়ে তটস্থ থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বক্তারা বলেন, হারুন অর রশিদ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নিজের লোকজনকে কয়েক শ কোটি টাকার কাজ দিয়ে অঢেল অর্থ হাতিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে গোপন রেট জানিয়ে দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ১১ কোটি টাকার ১০টি গ্রুপের ১০টি কাজই দিয়েছেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে লঙ্ঘন করা হয়েছে সরকারি নির্দেশনা। কামালের নেওয়া গোদাগাড়ী উপজেলায় ২০২২ সালের ১৮ কোটি টাকার প্ল্যানটেশনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া জেলার নয়টি উপজেলায় ৪০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত। ফলে বাড়ছে ভোগান্তি।

এদিকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ দীর্ঘ সময় বিল আটকিয়ে ঠিকাদারদের হয়রানি করেন। এরপর তিনি ঠিকাদারদের চেক দেওয়ার সময় বিলের এক শতাংশ উৎকোচ দিতে বাধ্য করেন। হারুন জামানতের টাকা ফেরত দিতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেন। এরপর টাকা ছাড়ের জন্য মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নেন।

আন্দোলনকারীরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রকৌশলী হারুনকে দ্রুত রাজশাহী থেকে বদলি ও তার দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে ও স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ঠিকাদার তারেক, ফিরোজ, হিমেল, শাহীন, সজিব, রবিন, শাকিল, ফরহাদসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের অন্য ঠিকাদারেরা উপস্থিত ছিলেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত অফিস করি। আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যা। আমি আওয়ামী লীগের দোসর না। দলমত-নির্বিশেষে বিধি মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আমি ঠিকাদারদের তিন কোটি টাকা ওভার পেমেন্ট (বেশি) নেওয়ার বিষয়টি ধরে ফেলায় তারা পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছেন।’

সর্বশেষ - অন্যান্য