নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় হজরত শাহ মখদুম (রহ:) কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। তবে বৃষ্টি হলে বা আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে একই সময়ে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে হযরত শাহ মখদুম (রহ:) দরগা জামে মসজিদে। আর মানুষ বেশি হলে ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে দরগা মসজিদে পর পর ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে হজরত শাহ মখদুম (রহ:) দরগা স্টেটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে প্রধান ঈদ জামাতের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন নগরীর হেতেমখাঁ বড় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা ইয়াকুব আলী। তাকে সহযোগিতা করবেন রাজশাহী শাহ মখুদম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ।
আর দরগা মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হলে প্রথমটিতে ইয়াকুব আলী ও দ্বিতীয়টিতে মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ইমামতি করবেন। ঈদ জামাত নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এরই মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীতে ঈদের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায় ও সকাল ৮টায় মহানগর (টিকাপাড়া) ঈদগাহে। এখানে ইমামতি করবেন মোহাম্মদপুর টিকাপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মতিউর রহমান। এখানে দ্বিতীয় জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে ৮টায়। আর বৃষ্টি হলে একই সময়ে পাশে থাকা টিকাপাড়া মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে পরপর ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
আর সকাল ৮টায় নগরীর তৃতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে বড় মসজিদ সংলগ্ন বড় রাস্তায়। এখানে ইমামতি করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা তৈয়বুর রহমান নিজামী। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা বৃষ্টি হলে একই সময়ে বড় মসজিদ কমপ্লেক্সে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সুষ্ঠুভাবে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের জন্য এরই মধ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বলে দেওয়া হয়েছে- সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি বরাবরের মতো আলোচনা করে নিজ নিজ ঈদগাহের ঈদ জামাতের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা রাজশাহী জেলা প্রশাসন এবারো ঈদের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরাই তাদের সুবিধামতো নামাজের সময় নির্ধারণ করবেন। এরপর ঈদের আগের দিন তা মাইকিং করে জানিয়ে দেবেন। তবে সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যেই রাজশাহীর বেশিরভাগ ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ হবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা গত বুধবার (১২ জুন) অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ঈদের প্রধান জামাতের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ঈদগাহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবখানেই ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঈদের দিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী নগরীর ঈদগাহগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এদিকে এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে- যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ঈদের দিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় হজরত শাহ খদুম (রহ:) কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জামাতের পর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ উপস্থিত রাজনৈতিক নেতা এবং মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুপল্লী, শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, সেফ হোম এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়া এদিন সরকারি ভবন ও সড়কসমূহ সজ্জিত থাকবে বিশেষভাবে।


















