নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং তাদের ইতিবাচক লেখনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।
এই লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেফগার্ডেনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা এতে অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন- দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত কুমার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপপ্রকল্প পরিচালক ড. নাজমুন নাহার নূর লুবনা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭৭ সাল থেকে ২২টি দেশে কাজ করছে। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে সংস্থাটি জনগণের ক্ষমতায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে আসছে।
‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি-এমআইপিএস’ প্রকল্পটি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের যৌথ অংশীদারিত্বে এবং ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে বাংলাদেশের ৩০টি জেলার ৮০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ মকবুল হোসেন বলেন, “গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যম যদি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে, তবে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই, যেখানে সব মতের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে।”
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত কুমার বলেন, “আমরা একটি ক্ষুধামুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কেবল খাদ্য বা ত্রাণ সহায়তা করে না, আমরা মানুষের বুদ্ধি বিকাশে বিশ্বাসী। আর শান্তি ছাড়া সেই বিকাশ সম্ভব নয়। সাংবাদিকরা হলেন সমাজের অতন্দ্র প্রহরী, তাদের লেখনীর মাধ্যমে তারা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে পারেন।”
সভার শুরুতে এই প্রকল্পের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এরিয়া সমন্বয়কারী এসএম শফিকুল রহমান। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, “এই প্রকল্পটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সমাজের সকল অংশীজনকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।”
ড. নাজমুন নাহার নূর লুবনা বলেন, “এই প্রকল্পের আওতায় আমরা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়ে ‘পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ’, ‘ইয়ুথ এগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ এবং ‘উইমেন এগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ নামক দল গঠন করেছি। এই দলগুলো তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা, সংলাপ আয়োজন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।”
তানোর কোঅর্ডিনেটর মাহবুবুল আলম মাসুদ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করার ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেন এবং এ ক্ষেত্রে আয়োজক সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।


















