স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র। শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম ম্যাচ। চলতি বছর এটি বাংলাদেশের ৩য় টেস্ট। তবু কিছুটা নতুনত্বের ঘ্রাণ লেগেই ছিল গল টেস্টে। কিন্তু সেটা ওই আবহ পর্যন্তই। টসে জিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা হলো না যুতসই। দলীয় ৫০ রানের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফিরেছেন টপ অর্ডারের তিন প্রতিনিধি এনামুল বিজয়, সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গল টেস্টের ১ম দিনের প্রথম সেশনের ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান। ক্রিজে আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং দলীয় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই ছিল একটা বাউন্ডারি। শুরুর বেশ কয়েক ওভার পর্যন্ত সেটাই প্রাপ্তি বলা চলে। এরপর শুরুতেই আউত হয়েছেন এনামুল হক বিজয়। ১০ বলে শূন্য রান করে ফেরেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে ভালো লেংথের বল ব্যাটে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন এই ওপেনার। এরপরের জুটি ছিল মুমিনুল হক এবং সাদমান ইসলামের। সেখানে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৪ রান।
দলীয় ৩৯ রানে অভিষিক্ত বোলার থারিন্দুর অফ স্টাম্পে করা বলের সুইংয়ে বিভ্রান্ত হন সাদমান। আরও একবার স্লিপে ক্যাচ। এর ঠিক ৮ বল পর মুমিনুলও ফেলেন স্লিপ অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে। এবারেও উইকেট শিকারী অভিষিক্ত থারিন্দু। ১৫তম ওভারের শেষ বলে সাদমানকে আউট করেন থারিন্দু রত্নায়েকে। মাঝে এক ওভার পর ১৭তম ওভারে প্রথম বলেই আবার পেলেন উইকেটের দেখা।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রের শুরুটা বাংলাদেশের হাত ধরে। আগের তিন চক্রের মাঝে কেবল গেল চক্রেই একের অধিক ম্যাচ জিতেছিল টাইগার ক্রিকেটাররা। যার সবটাই পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নতুন চক্রের আগে ওয়ানডের অধিনায়কত্ব হাতছাড়া হলেও টেস্টের জন্য তাকেই দলপতি রাখা হয়েছে।
নতুন চক্রটা নাজমুল শান্ত শুরু করছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে। বাংলাদেশের হয়ে কমপক্ষে ১০ টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে শান্তই জয়ের শতাংশ হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকছেন। ১২ ম্যাচ শেষে তার অধীনে ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশ ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ।
১২ ম্যাচে অধিনায়ক হয়ে শান্ত জিতেছেন ৪ ম্যাচ। হেরেছেন ৮ ম্যাচে। শতাংশ হিসেবে ৩৩ এর বেশি। বাংলাদেশের আর কোনো অধিনায়ক ২৫ শতাংশ ম্যাচই জিততে পারেননি। সাকিব আল হাসান ১৯ ম্যাচে ৪ জয় পেয়েছেন । সেটা ২১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি জয় মুশফিকুর রহিমের। ৩৪ ম্যাচে ৭ জয় তার।
তবে শান্তর সামনে সুযোগ নিজেকে অন্য উচ্চতায় নেয়ার। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে কম ম্যাচে ৫ জয় অর্জনের সুযোগ থাকছে তার সামনে। ৫টি টেস্ট জিততে মুশফিকুর রহিমের দরকার ছিল ১৭ টেস্ট। শান্ত সেটা নিজের করে নিতে পারেন এই সিরিজে।
সেইসঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে ৩০ শতাংশের বেশি উইন পার্সেন্টেজ রেখে ৫ টেস্ট জেতার সুযোগও থাকছে তার সামনে। যদিও গেল চক্রে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাজটা সহজ হচ্ছে না, সেটা অনেকটাই অনুমেয়।


















