শনিবার , ১৫ মার্চ ২০২৫ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

সই জাল করে বোনের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন টিউলিপ

প্রতিবেদক
editor
মার্চ ১৫, ২০২৫ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি প্লট হস্তান্তরের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তদন্তে জানা গেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ জাল নোটারি পাবলিক ব্যবহার করে তার বোনের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। নোটারি পাবলিকে ব্যবহৃত আইনজীবীর সইটিও জাল।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দুদকের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে নিজ ও পরিবারের জন্য সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দুদকের একটি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তিনি (টিউলিপ) ভুয়া নোটারি পাবলিক ব্যবহার করে তার বোনকে একটি ফ্ল্যাট দেন। দুদক এখন তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করবে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুমোদন দিলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

টিউলিপ সিদ্দিক চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনি তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সম্পত্তি গ্রহণ করেছেন। এ অভিযোগ ওঠার পর তিনি রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েন। তবে অভিযোগগুলো বারবার অস্বীকার করে আসছেন টিউলিপ।

দুদক জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতির অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তের অংশ হিসেবে টিউলিপসহ শেখ হাসিনার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। দুর্নীতির মামলা পরিচালনা ও তদন্তের ক্ষমতা আছে দুদকের। সংস্থাটির দাবি, শেখ হাসিনা ও তার আত্মীয়রা আইন লঙ্ঘন করে সরকারি প্লটের মালিক হয়েছেন।

গত বছর আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামল শেষ হয়। এরপর থেকে তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্লট নেওয়া ও আর্থিক অনিয়ম-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি, ঢাকার পূর্বাচলে নিউ টাউন প্রকল্পের ৬০ কাঠা (প্রায় এক একর) সরকারি প্লট অবৈধভাবে শেখ হাসিনা, তার সন্তান ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংস্থাটির অভিযোগ, ঢাকা শহরে আগেই টিউলিপের আরেকটি সম্পত্তি থাকায় পূর্বাচলে জমি বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী তিনি প্লট পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ম লঙ্ঘন করে প্লট বরাদ্দ পান। এতে দেখা যায়, তাদের ক্ষেত্রে প্লট বরাদ্দ পেতে নিয়ম অনুযায়ী লটারির নিয়মও লঙ্ঘন করা হয়েছে।

বিশদ তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক আরেকটি অভিযোগে বলেছে, টিউলিপ তার মালিকানাধীন গুলশানের একটি ফ্ল্যাট বোন আজমিনা সিদ্দিককে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভুয়া নোটারি পাবলিক ব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই নথিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওই আইনজীবী এ নোটারি পাবলিকের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সিলটিতে তার নাম থাকলেও নোটারি পাবলিকের সইয়ের সঙ্গে তার সইয়ের মিল নেই।

সিরাজুল ইসলাম তদন্তকারীদের জানান, তিনি শুধু তার নিজের চেম্বারে বসেই ডকুমেন্ট নোটারি করেন এবং টিউলিপ সিদ্দিক বা আজমিনা সিদ্দিকের সঙ্গে তার পরিচয় নেই। বিতর্কিত নোটারি পাবলিকটি একটি হেবা দলিল। সাধারণত কাউকে কোনো সম্পত্তি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি ইসলামিক আইনি দলিল। উল্লিখিত দলিলটি ২০১৫ সালের। সে সময় টিউলিপ লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য হলেও মন্ত্রিত্ব পাননি। দুদকের অভিযোগ, প্রতারণা করে ওই নোটারি পাবলিক করা হয়েছে এবং এটি ছিল ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখার প্রচেষ্টার অংশ।

সর্বশেষ - অন্যান্য