নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও জুলাই ৩৬ ফোরাম- অপরাজেয় বাংলার উদ্যোগে ‘সমঝোতা ব্যতীত সংবিধান সংস্কার কি সম্ভব’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজে বিভাগীয় এই সংলাপ আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিরাজ করছে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলোরও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমঝোতা সংলাপে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদ বিলোপ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিরাজমান রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে।
তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখনো তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশে নতুন বিজয়ের সূচনা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংস্কার ও সমঝোতা খুবই জরুরি।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী। উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. মো. ওয়াসিম হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক আবুল হাসনাত বেগ, গণসংহতি আন্দোলনের রাজশাহীর সদস্যসচিব জুয়েল রানা, রাষ্ট্র সংষ্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সমন্বয়ক সৈয়দ আবুল হাসিব, রাজশাহী মহানগর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত বেগ, নদী গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, বাংলাদেশ নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন রাষ্ট্র সংষ্কার আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ড. ইউনুস অন্তর্বতীকালীন সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন ঠিকই কিন্তু তিনি এদেশের গণমানুষের আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গণবিরোধী ফ্যাসিস্টদের বিচারের আওতায় আনার যে রুটিন ওয়ার্ক সেটাই করতে পারেন নি। অথচ, তার আসল দায়িত্ব ছিল বেশকিছু বিষয়ে দ্রুত সংষ্কার করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্হা করা। কিন্তু এ সরকার তাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া দেশের সংবিধান সংষ্কার বা সংশোধন সম্ভব না। তাই দ্রুত একটি নির্বাচন দিয়ে এই অন্তর্বতী সরকারের বিদায় নেওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


















