নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ‘সপ্তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সপ্তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘৭ম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান সামরিক রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করলেন।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেনাবাহিনী প্রধানকে রেজিমেন্টের কর্নেল র্যাংক পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সবার উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। রেজিমেন্টের সপ্তম কর্নেল অব দ্য রেজিমেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এ রেজিমেন্ট ইতোমধ্যে আধুনিকায়ন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠা, আধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদি সংযোজনসহ উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমি কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহ এবং এর চলমান প্রক্রিয়াকে আরো বেগবান করব।’
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘২০২১ সালের ১ জানুয়ারি
বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা লাভের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হয়েছে।
ওয়াকার-উজ-জামান আশা প্রকাশ করেন, রেজিমেন্টের সব সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পেশাদারির সঙ্গে পালন করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, এই রেজিমেন্টের সকল সদস্য দেশের প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘রেজিমেন্টের প্রত্যেকটি সদস্যকে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সর্বদা বদ্ধপরিকর। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি একটি সুন্দর জীবনমানও আমাদের কাম্য। যেকোনো কল্যাণমুখী কার্যক্রমের জন্য আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। এ ব্যাপারে আমি রেজিমেন্টের সব সদস্যের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে সেনাবাহিনী প্রধান বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধিনায়ক ও অন্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং এ রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
একই সাথে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই রেজিমেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই রেজিমেন্টের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, অন্যান্য অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধানের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই রেজিমেন্টের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি ও রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্যের মাঝে আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।


















