মঙ্গলবার , ৭ জানুয়ারি ২০২৫ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কলাম/মতামত
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নামাজের সময়সূচি
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রচ্ছদ
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ সংবাদ

রাজশাহীতে নভোথিয়েটার নির্মাণ সাবেক মেয়র লিটনের পকেট ভারী করার আরেকটি ফাঁদ

প্রতিবেদক
editor
জানুয়ারি ৭, ২০২৫ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

হাবিব আহমেদ : আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে ও জ্ঞানচর্চায় রাজশাহীতে নির্মাণ করা হয়েছে নভোথিয়েটার। দেশি-বিদেশী আধুনিক প্রযুক্তির সাথেই পরিচয় নয়, এই নভোথিয়েটারে মহাকাশ ও সৃষ্টির ব্যাপারে জ্ঞানার্জনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই নভোথিয়েটারের সুফল পাচ্ছেন না রাজশাহীবাসী। বিশেষ করে এই নভোথিয়েটার থেকে শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞান অর্জন করছে এমন প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও এই নভোথিয়েটার নির্মাণের সময় বিতর্ক ছিল। সেই বিতর্ক এখনো কাটেনি। আর জ্ঞান অর্জন যে তকমা দেয়া হয়েছিল তাতে গুড়েবালি। রাজশাহীবাসীর ভাবনায় এই নভোথিয়েটার এখন ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানার আয়তন কমেছে অন্য দিকে নভোথিয়েটার নির্মাণের নামে কোটি কোটা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন না হলেও পকেট ভরেছে রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের। জানা গেছে, ২শ’ ২২ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণেই ব্যয় হচ্ছে ৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অধিনে রাজধানী ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেট এর নির্মাণ কাজ করেছে।

বেশ কয়েকবার নকশা বদল করে তার পর নির্মাণ করা হয় এ নভোথিয়েটার। নভোথিয়েটারের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর গত ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাশসকের অন্যতম শেখ হাসিনা সারাদেশের ১৫৭টি প্রকল্পের, ১০ হাজার ৪১টি অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।

এরমধ্যে ছিল রাজশাহীর নভোথিয়েটার। যদিও উদ্বোধনের পর যে সাড়া পাওয়ার কথা ছিল প্রথম থেকেই সেই সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন কি নভোথিয়েটারে যে প্রযুক্তিগত দিক ব্যবহার করার কথা ছিল সেটিও ব্যবহার হয়নি। যে প্রযুক্তি আছে সেটিও নিন্মমানের। যার কারণে উদ্বোধনের এক মাস যেতে না যেতে মুখ থুবড়ে পড়ে রাজশাহীর নভোথিয়েটারটি।

জানা গেছে, রাজশাহীর নভোথিয়েটার নির্মাণের পর পৈত্রিক সূত্রে এর নাম করণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। এখানে রয়েছে, ১৫ মিটার ব্যাসের ১৬০ আসন বিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্লানেটারিম। থাকার কথা ছিল, ডিজিটাল সায়েন্টিফিক এক্সিবিট, রোবট, সৌরজগতের তথ্যসহ গ্রহগুলির মডেল, ফাইভ-ডি সিম্যুলেশন থিয়েটার, ইমারসিভ রাইড সিম্যুলেটর, অবজারভেটরি টেলিস্কোপসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক সরঞ্জাম। তথ্যপ্রযুক্তির যা থাকার কথা ছিল তার বেশিরভাই নেই।

আছে শুধু মাত্র প্লানেটারিম প্রদর্শনী, থ্রি-ডি মুভি থিয়েটার, ইমারসিভ রাইড সিম্যুলেটর, ডিজিটাল সায়েন্টিফিক এক্সিবিট গ্যালারী। এই চারটি ছাড়া আর কিছুই নেই নভোথিয়েটারে। এরমধ্যে থ্রি-ডি মুভি দেখার লোক নেই। শুক্রবার ১০ থেকে ১৫ জনের মতো দর্শক হয়। বাকি দিনগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে। এছাড়া বুধবার বাদে বাকি ৬ দিন প্লানেটারিম প্রদর্শনী, ডিজিটাল সায়েন্টিফিক এক্সিবিট গ্যালারী সামান্য কিছু লোকজন হয়। বর্তমান এই নভোথিয়েটারের যে অবস্থা তাতে অল্পদিনের মধ্যে হয় বন্ধ করে দিতে হবে, নয়তো ভর্তুকি দিয়ে এই নভোথিয়েটার চালাতে হবে।

মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধিনে এটি পরিচালিত হয়। জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানা ৩৩ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। বিনোদন বিশেষজ্ঞদের মতে বড় কোনো উদ্যান করতে গেলে সেখানে মিনিমাম ৫০ একর জায়গার প্রয়োজন হয়।

সেখানে রাজশাহী চিড়িয়াখানা রয়েছে ৩৩ একর। এই জায়গা থেকে নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য নেয়া হয়েছে ৩৯ হাজার ৮০০ বর্গফুট। একেই তো চিড়িয়াখানার জায়গা সংকট তার উপর সেখানকার জায়গা নিয়ে নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চিড়িয়াখানার আয়তন কমে গেছে। যদিও নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রস্তাবনা দেয়ার পর নগরবাসী চিড়িয়াখানা বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কিন্তু রাসিকের সাবেক মেয়র লিটন কারো কোনো কথা না শুনে নিজের মনগড়াভাবে চিড়িয়াখানার জায়গা নিয়ে এ নভোথিয়েটার নির্মাণ করেছেন। এতে নগরবাসী বলছে, ২২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নভোথিয়েটার নির্মাণে রাজশাহীবাসীর কোনো উপর হয়নি। বরং চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য নষ্ট হয়েছে। বলা যায়, গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ নভোথিয়েটার।

এছাড়াও এই নভোথিয়েটার নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন সাবেক মেয়র লিটন। তিনি গণপূর্ত বিভাগের কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগ সাজস করে এর কাজ পাইয়ে দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেটকে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেটের সাথে সাবেক মেয়র লিটনের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। ঠিকাদারের মাধ্যমে তিনি নভোথিয়েটার নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নভোথিয়েটারে যে আধুনিক প্রযুক্তির আনার কথা ছিল সেগুলোর কোনো কিছুই করেন নি লিটন।

চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা নওগাঁর লোকমান হোসেন বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এক মাত্র বিনোদন কেন্দ্র এটি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজশাহীতে কি জায়গার অভাব ছিল যে চিড়িয়াখানার মত জায়গায় নভোথিয়েটার করতে হবে। থ্রি-ডি মুভি দেখতে আসা শিক্ষার্থী জুলকার নাইন বলেন, এই নভোথিয়েটারে যা থাকার কথা ছিল তার কিছুই নাই। তারা যে থ্রি-ডি মুভি চালায় সেটারও মান ভাল না।

প্রযুক্তির যা আছে তা মনে হয় কেউ দান করেছে। অপর শিক্ষার্থী জুলহাস বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মধ্যে মাত্র চারটি রয়েছে। বাকিগুলো নেই। এতো বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করে এমন নভোথিয়েটার নির্মাণের কোনো যুক্তি ছিল না। কারণ এর চেয়ে প্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বা মিউজিয়ামে বেশি রয়েছে। এমন মন্তব্য করেন আরো অনেকেইে।

এ ব্যাপারে রাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন জানান, প্রায় সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। উন্নয়ন কাজ যা ছিল সেটাও বন্ধ। চালাতে হবে বলে হয়তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় এটি সচল রেখেছে। তবে এখানে রাসিকের কোনো সংশ্লিষ্ঠতা নেই।

এ ব্যাপারে নভোথিয়েটারের দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানকার কর্মচারিরা বলছেন যারা দায়িত্বে আছেন তারা ঢাকায় থাকেন। কখন আসেন কখন যান সেটি কেউ জানেন না।

সর্বশেষ - অন্যান্য

আপনার জন্য নির্বাচিত