নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, মানুষের তৈরি করা আইন কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরোকালীন মুক্তি নিহিত রয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা শাখার দি¦-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এখন মানুষ কথা বলছে পারছে। আপাতত একটা স্বস্তির পরিবেশ ফিরেছে। তাই এখন নতুন ভাবে বাংলাদেশকে গড়তে হবে। নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ার সময় এসেছে।
পতিত স্বৈরাচার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে।
অন্য কারো স্বার্থ দেখেনি। জনস্বার্থে কোনো কাজও করেনি। পতিত স্বৈরাচার আ’লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে। গণপিটুনির ভয়ে আ’লীগের লোকজন নিজেদেরকে অপরাধী ভেবে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে। নিজেদের অপরাধী ভেবেই তারা দেশে ফিরছেনা। ওরা জানে দেশে ফিরলে জনগণ কখনো ছাড়বে না।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরো বলেন, আ’লীগ সরকার নির্বাচন নিয়ে তামাশা করেছে। দিনের ভোট রাতে করেছে। এরপর আবার তারা নিজেরা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমে ভোট করেছে। জনগনকে কখনোই ভোট দিতে দেয়নি। স্বৈরাচার যাতে আর প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আর ফিরতে পারবেনা।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। মাঠে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে খোদাভিরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সবাইকে কাজ করতে হবে। আল্লাহর আইন ছাড়া মানুষ শান্তি পাবে না। মানুষের আইন কখনোই সুখ শান্তি দিতে পারে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের রাসুল (স:) শ্রমিকদের ভালোবাসতেন।
তাই শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ভাতা প্রদান করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন যাতে বাকি না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিকদের উপর যাতে কোনো ধরণের অত্যাচার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শ্রমিক-মালিক এক থাকলে সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি না পেলে অশান্তি হয়। তা মালিক পক্ষের জন্যও শুভ হয় না। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্বে শেষ হয়ে গেছে।
সে কারণেই শ্রমিক-মালিক সবাইকে সবার সুযোগ সুবিধা বুঝে কাজ করতে হবে। শ্রমিকরা তাদের অধিকার পেলেই সম্মেলন সফল হবে। সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান তিনি। শ্রমিক কল্যাণ ফেডাশেনের রাজশাহী জেলা সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও নবনির্বাচিত সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদিরের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা ড: মাওলানা কেরামত আলী, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল খালেক, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, ফেডারেশনের রাজশাহী জেলার বিশেষ উপদেষ্টা গোলাম মুর্তজা ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ।
কমিটির ঘোষণা : সম্মেলনে দুই বছর মেয়াদী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো: কামরুজ্জামানকে সভাপতি, শফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও এমদাদুল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির সভাপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।


















